ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে : পুতিন

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে শান্তিচুক্তি

2026-05-10T18:06:36+00:00
2026-05-10T18:06:36+00:00
  রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬,
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
 
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে : পুতিন
অনলাইন ডেস্ক
রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ৬:০৬ পিএম 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে মস্কোর রেড স্কয়ারে আয়োজিত বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ৯ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হলে তৃতীয় কোনও দেশে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসতেও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি। যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময়ের ঘোষণার মধ্যেই পুতিনের এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা তৈরি করেছে।

রাশিয়ার ভিক্টরি ডে বা বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার (৯ মে) মস্কোর রেড স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজে পুতিন ইউক্রেনে লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে হারানোর জাতীয় গৌরবের কথা স্মরণ করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘জয় সব সময় আমাদেরই হয়েছে, আমাদেরই হবে।’ ওই কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পর ক্রেমলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টি শেষের দিকে এগোচ্ছে।’

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করেই এ কথা বলেন পুতিন। তবে কীভাবে তা শেষ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

ক্রেমলিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি ‘গ্লোবালিস্ট’ পশ্চিমা নেতাদের দোষারোপ করে বলেন, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ন্যাটো পূর্ব দিকে আর সম্প্রসারিত হবে না, কিন্তু পরে তাঁরা ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাব বলয়ে আনার চেষ্টা করেন।

চার বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনের যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ অভিযানের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের শুরু হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় উদ্‌যাপনে প্রতিবছর ৯ মে বিজয় দিবস পালন করে রাশিয়া। বার্ষিক এ আয়োজনের মাধ্যমে রাশিয়া ওই যুদ্ধে নিহত ২ কোটি ৭০ লাখ সোভিয়েত নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

দিনটিতে মস্কোয় সামরিক কুচকাওয়াজে সাধারণত আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে সীমিত আকারে এই কুচকাওয়াজ হয়। প্রদর্শনীর পরিবর্তে এবার ক্রেমলিনের দেয়ালের বিপরীতে থাকা বিশাল পর্দায় সামরিক সরঞ্জামের ভিডিও দেখানো হয়।

এই যুদ্ধ রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ককে এমন এক গুরুতর সংকটে ফেলেছে, যা ১৯৬২ সালের কিউবার মিসাইল সংকটের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বিবেচিত হয়। যুদ্ধের শুরুর দিকে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।

পুতিন এই যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত বলেও উল্লেখ করেন।

ইউরোপের জন্য নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনায় নিজে প্রস্তুত বলেও জানান পুতিন। এ ক্ষেত্রে তিনি আলোচনার জন্য পছন্দ করছেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারকে।

রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে এখন তিন দিনের যুদ্ধবিরতি চলছে। ৯ মে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি ১১ মে শেষ হবে। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন।

ক্রেমলিন বলেছে, এ যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: