দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ ভাবে সরকার বিরোধী আন্দোলনে সরব ছিলো বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ১২ দলীয় জোট, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, বিজেপি, গণফোরাম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি ইসলামী রাজনৈতিক দল উল্লেখযোগ্য।
পাশাপাশি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদসহ আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলনে।
আন্দোলন চলাকালে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে একসঙ্গে সরকার গঠন করবে। মূল্যায়ন করা হবে সকল শরীকদের।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করেছে। শরীক দলের তিন নেতাকে মন্ত্রিপরিষদে ঠাই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তারা হলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। যদিও তিনি ঢাকা-১৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নির্বাচিত হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদে তিন দলের তিন নেতার ঠাঁই হলেও জায়গা হয়নি ছোট রাজনৈতিক দলের অনেক বড় নেতার।
বিশেষ করে বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর মত সিনিয়র ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতারা এখনো যথাযথ মূল্যায়ন পাননি বিএনপির কাছ থেকে।
সংসদ সদস্য হওয়ার সুবাদে বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকলেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে শরিক অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে শরিক দলের আনুষ্ঠানিক কোনো সভাও হয়নি।
শরীর দলের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা অনেকটাও অভিমান নিয়ে যথাযত মূল্যায়নের আশায় দিন গুনছে।
বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের একাধিক নেতা ভোরের ডাক-এর সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, আমরা বিএনপিকে পর্যবেক্ষণ রাখছি। আমরা দেখছি, বিএনপি আমাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখে কিনা। তবে আমরা তাদেরকে আরো সময় দিতে চাই। নতুন সরকার গঠন হয়েছে এখনো তিন মাস অতিবাহিত হয়নি।
এরমধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা কারণে সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কাজ করতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।
আমরা আশা করি, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আমাদের সাথে তিনি বসবেন। আমাদের কথা শুনবেন এবং আমাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করার চেষ্টা করবেন।
এ ব্যাপারে ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির ( কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার ভোরের ডাককে বলেন, নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনের আগে বিএনপি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো দীর্ঘদিনের আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে একসাথে চলবে। দুর্ভাগ্যবশত এখনো তা দৃশ্যমান হয়নি।
তবে একথা সত্য, সরকার গঠনের পরেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী নানা সংকট দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এছাড়া আরো নানা বিষয়ে তাকে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে আমার মনে হয় আরেকটু গুছিয়ে নিয়ে তিনি আমাদের সাথে বসবেন এবং মূল্যায়ন করবেন।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ভোরের ডাককে বলেন, বিএনপি তো নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠন করার কথা বলেছিলো। একসাথে পথ চলার কথাও বলেছিলো। কিন্তু জাতীয় সরকার তো গঠন হয়নি।
নির্বাচনের পরে আমাদেরকে ডাকাও হয়নি। এমনকি আনুষ্ঠানিক কোনো কথাবার্তা হয়নি। হয়তো তারা নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তারা তাদের মত কাজ করছে, আমরা আমাদের মত কাজ করছি। তারা কি কাজ করছে তা আমরা পর্যবেক্ষণও করছি। দেখি সামনের দিনে কি হয়।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ভোরের ডাককে বলেছেন, মূলত আমরা বিএনপিকে এখন পর্যবেক্ষণ করছি, এই মুহূর্তে তাদের সাথে আমাদের কোন বোঝাপড়া নেই। তারা তাদের কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। তবে আমরা তাদের সাথে কোনো বিরোধিতায় যাচ্ছি না, আরেকটু সময় দিতে চাচ্ছি।
তবে এটুকু সত্য বিএনপি যে বলেছিল নির্বাচনের পরে জাতীয় সরকার গঠন করে একসাথে চলবে, মনে হয় না এখন এগুলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডার মধ্যে আছে। সংসদের তাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। ফলে হয়তো এখন তাদের আমাদের দরকার হচ্ছে না। একলা চলো নীতিতে চলছে।
সাইফুল হক আরো বলেন, আমার মনে হয় সরকার তাদের এখন প্রয়োজনীয় কাজ করছে। আমরাও আমাদের মত করে পার্টিকে সুসংগঠিত করার কাজ করছি।