ইনিংসের তখন বাকি ১৩ ওভারের কম। ওই সময় ক্রিজে গিয়ে ঝড় তুললেন মোসাদ্দেক হোসেন। সিটি ক্লাবের বোলারদের কচুকাটা করে উপহার দিলেন সেঞ্চুরি। তাতে লড়ার মতো পুঁজি পেলেও, জিততে পারল না আবাহনী লিমিটেড।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে বৃহস্পতিবার বিস্ফোরক সেঞ্চুরি করেন লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ১৯ বছর বয়সী সামিউন বাশিরও।
অল্পের জন্য তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পাননি গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার। শতকের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেননি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের তাওহিদ হৃদয়ও।
ভেজা মাঠের কারণে ২৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১০১ রান করেন মোসাদ্দেক। ৫০ বলের অপরাজিত ইনিংসটি গড়েন তিনি ১০টি ছক্কা ও ছয়টি চারে।
ইনিংসটির পথে ৪৯ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন মোসাদ্দেক। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা যৌথভাবে দ্রুততম শতকের রেকর্ড। দেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫০ বলের কমে সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়লেন তিনি।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে সংস্করণে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে উত্তরাঞ্চলের হয়ে ৪৯ সেঞ্চুরি করেছিলেন হাবিবুর রহমান সোহান। আর ২০১৬ সালে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের বিপক্ষে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা সেঞ্চুরি করেছিলেন ৫০ বলে।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে মোসাদ্দেকের পঞ্চম শতক ও জিশান আলমের ফিফটিতে ২০৯ রান করে আবাহনী। দুটি ছক্কা ও পাঁচটি চারে ৫৪ রান করেন ওপেনার জিশান।
ইনিংসের পঞ্চদশ ওভারে ক্রিজে যান মোসাদ্দেক। প্রথম ছয় বলে এক রান নেন তিনি। মুখোমুখি সপ্তম বলে ছক্কায় উড়িয়ে ডানা মেলে দেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ১৮তম ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
আহরার আমিনকে ছক্কা হাঁকিয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন মোসাদ্দেক, ২৮ বলে। ফিফটির পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন তিনি। পরের ২১ বলে ৫০ রান করে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন তিনি।
রান তাড়ায় শুরুতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো সিটি ক্লাবের একপ্রান্ত ধরে রেখে তিনটি ছক্কা ও আটটি চারে ৭১ রান করেন ওপেনার মেহেদী মারুফ। পরে তাহজিবুল ইসলাম, এনামুল হক আনাম ও আব্দুল গাফফার সাকলায়েনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৮ বল বাকি থাকতে ২ উইকেটের জয় তুলে নেয় সিটি ক্লাব।
গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী এবারের প্রথম দুই ম্যাচেই হারল। প্রথম রাউন্ডে নবাগত ঢাকা লেওপার্ডসের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হেরে যায় তারা।
মোসাদ্দেকের সেঞ্চুরি বিফলে গেলেও, আরেক ম্যাচে সামিউনের পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রথম শতক দলের জয়ে রাখে বড় ভূমিকা। ৩৫৮ রানের পুঁজি গড়ে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে ৮৩ রানে হারায় রূপগঞ্জ।
সাতে নেমে ১০ ছক্কা ও ছয়টি চারে ৭০ বলে ১১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন সামিউন। এক ছক্কা ও আটটি চারে ৬২ রান করেন আইচ মোল্লা। ছয়ে নেমে দুই ছক্কা ও সাতটি চারে ৫৬ রান আসে তানবির হায়দারের ব্যাট থেকে।
২৮তম ওভারে ক্রিজে যান সামিউন। ধীরলয়ে শুরুর পর দ্রুত রান বাড়ান তিনি। রুয়েল মিয়াকে ছক্কায় উড়িয়ে ৩৭ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন এই ক্রিকেটার। পরের পঞ্চাশ রান করতে তার লাগে ২৭ বল।
রান তাড়ায় বসুন্ধরার সব ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্ক স্পর্শ করেন। কিন্তু কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬১ রান করতে সাতটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন জিয়াউর রহমান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ২৭৫ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
দিনের আরেক ম্যাচে, ব্রাদার্স ইউনিয়নকে পাঁচ উইকেটে হারানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার হৃদয়। ২১০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় সাতটি চারে ৮২ রান করেন মোহামেডানের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
হৃদয় যখন ড্রেসিং রুমে ফেরেন, জয়ের জন্য তখনও ৩৩ রান প্রয়োজন মোহামেডানের। জিততে অবশ্য সমস্যা হয়নি তাদের।
অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেন তাইবুর রহমান। ২২ রানে দুই উইকেট নেওয়ার পর, একটি ছক্কা ও পাঁচটি চারে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
ব্রাদার্সের হয়ে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলতে পেরেছেন কেবল একজন- সোহাগ গাজী। তিনটি ছক্কা ও চারটি চারে ৩৫ বলে ৫০ রান করেছেন তিনি।
হৃদয়ের চেয়ে আক্ষেপ অবশ্য বেশি মুনিমের। রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে স্রেফ আট রানের জন্য সেঞ্চুরি ছুঁতে পারেননি গাজী গ্রুপের এই ব্যাটসম্যান। পাঁচটি ছক্কা ও ১১টি চারে গড়া তার ৫৮ বলে ৯২ রানের ইনিংসটি।
মুনিম ছাড়া গাজী গ্রুপের হয়ে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন সাব্বির হোসেন। এই কিপার-ব্যাটসম্যান দুটি ছক্কা ও চারটি রানে ৭২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তাদের নৈপুণ্যে ২৫৮ রানের সংগ্রহ গড়ে দলটি।
লক্ষ্য তাড়ায় একদমই লড়াই করতে পারেনি রূপগঞ্জ টাইগার্স। তাদেরকে ১০৩ রানে গুটিয়ে ১৮২ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় গাজী গ্রুপ।
গাজী গ্রুপের হয়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন অফ স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। তিনটি প্রাপ্তি আজিজুল হাকিমের।
ঢাকা লেওপার্ডসকে ৩১ রানে হারায় অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ২৪৬ রান করে প্রতিপক্ষকে ২১৫ রানে গুটিয়ে দেয় তারা।
এক ছক্কা ও ১০টি চারে ৬৪ রান করে অগ্রণী ব্যাংকের জয়ে ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। এছাড়া জাহিদ জাভেদ দুটি ছক্কা ও পাঁচটি চারে করেন ৬৬ রান।
ঢাকা লেওপার্ডসের হয়ে ৫৭ রান খরচায় পাঁচ উইকেট নেন পেসার আলাউদ্দিন বাবু। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার এই কীর্তি গড়লেন তিনি।
রান তাড়ায় লেওপার্ডসের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই ভালো শুরু পায়। কিন্তু সৈকত আলি ছাড়া কেউ পঞ্চাশ করতে পারেননি। দুটি ছক্কা ও চারটি চারে ৫৯ রান করেন সৈকত।
দিনের অন্য ম্যাচে, গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ৩২ রানে হারায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ৩৬ ওভারের ম্যাচে ২০০ রান করে গুলশানকে ১৬৮ রানে থামিয়ে দেয় তারা।
ম্যাচে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলতে পেরেছেন কেবল দুই দলের দুই ওপেনার। প্রাইম ব্যাংকের শাহাদাত হোসেন দুটি ছক্কা ও আটটি চারে ৭৫ রান করে হন স্টাম্পড। আর গুলশানের মইনুল ইসলাম তিনটি ছক্কা ও সাতটি চারে ৬৭ রান করে আলিস আল ইসলামের বলে হন বোল্ড।
আগের ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া স্পিনার আলিস এদিন ধরেন তিন শিকার।