ফিক্সিংয়ের দায়ে এক ক্রিকেটারসহ ৪ জনকে সাময়িক বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক

খেলাধুলা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিং ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক ক্রিকেটারসহ ৪ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।বৃহস্পতিবার

2026-05-07T20:42:24+00:00
2026-05-07T20:42:24+00:00
 
  শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬,
২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
খেলাধুলা
ফিক্সিংয়ের দায়ে এক ক্রিকেটারসহ ৪ জনকে সাময়িক বহিষ্কার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৮:৪২ পিএম 
ফিক্সিংয়ের দায়ে এক ক্রিকেটারসহ ৪ জনকে সাময়িক বহিষ্কার
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিং ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক ক্রিকেটারসহ ৪ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিসিবি জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড, বেটিং (জুয়া), তদন্তে অসহযোগিতা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিপিএলের সবশেষ দ্বাদশ (২০২৫-২৬ মৌসুম) আসরে অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য তাঁদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে বলে আজ বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে জানানো হয়েছে, কথিত বেটিং-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, দুর্নীতিমূলক যোগাযোগ, কোডের ৪.৩ ধারার অধীন জারি করা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থতা, প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ ও তথ্য গোপন বা মুছে ফেলা এবং নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তা এর তদন্তে অসহযোগিতা।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন চিটাগং রয়্যালসের লজিস্টিক ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহমালিক মো. তৌহিদুল হক, ক্রিকেটার অমিত মজুমদার ও সিলেট টাইটানসের টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী।

এ ছাড়া বিসিবি তাদের ‘এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’র আওতায় সামিনুর রহমানকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে। সর্বশেষ বিপিএলে তিনি চিটাগং রয়্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিপিএলের ৯ম, ১০ম, ১১তম আসরসহ একাধিক আসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথিত দুর্নীতিমূলক কার্যক্রমের তদন্তের পর তাঁর ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, দ্বাদশ বিপিএলে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তটি করেছেন মূল বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শাল। তবে এর আগে একাদশ বিপিএলে ওঠা ফিক্সিংয়ের বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে গত বছরের অক্টোবরে বিসিবির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি।

ফারুক আহমেদ সভাপতি থাকার সময় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারকে প্রধান করে গঠিত সেই তদন্ত কমিটিতে আরও ছিলেন আইনজীবী ড. খালেদ এইচ চৌধুরী ও সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাসেম।

তাঁদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সেসব অভিযোগ নিয়েও অধিকতর তদন্ত করছেন অ্যালেক্স মার্শাল। তবে সেই তদন্ত এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আজ বিপিএল নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির অন্তর্বর্তী সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বাকি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকবে, তবে পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা ক্রিকেটীয় কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বর্তমান প্রধান ফাহিম সিনহাকে সঙ্গে নিয়ে করা আজকের সংবাদ সম্মেলনে দ্বাদশ আসরের আরও কিছু অনিয়ম তুলে ধরেন তামিম। এসব অনিয়মের কথা এর আগেও বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তবে বিসিবি থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিপিএলের দ্বাদশ আসরে বিসিবি সভাপতি ছিলেন আমিনুল ইসলাম, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলেরও প্রধান ছিলেন তিনি। সদস্যসচিব ছিলেন ইফতেখার রহমান।

দ্বাদশ আসরের অনিয়ম সম্পর্কে তামিম বলেন, ‘অ্যালেক্স মার্শাল জানিয়েছেন, ইওআইর আগে দুজন ব্যক্তির ব্যাপারে ইন্টেগ্রিটি ইস্যু বলে বলা হয়েছিল তাদেরকে যেন ফ্র্যাঞ্চাইজি না দেওয়া হয়। কিন্তু তখনকার গভর্নিং কাউন্সিলের কয়েকজন নাকি খুব জোর করে একজনকে বাধ্য করেছে তাদেরকে টিম দিতে এবং আরেকজনের ক্ষেত্রে একটু লিনিয়েন্সি শো করে। ওই ব্যক্তি নিজে সামনে না থেকে পেছনে থেকে আরেকজনকে সামনে দিয়ে দিয়েছে।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘সবচেয়ে বিস্ময়কর জিনিস যেটা দেখলাম, দুটি দলের সঙ্গে এখন পর্যন্ত চুক্তিই হয়নি, অথচ একটা সংস্করণ খেলে ফেলেছে!’ ফ্র্যাঞ্চাইজি দুটির নামও বলেছেন তামিম—সিলেট টাইটানস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস।

বিপিএলের সর্বশেষ আসরে বিসিবির ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তামিম। এ ছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি বাছাই, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান, খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজির চুক্তি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম আর সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তামিম। তাঁর মতে এসব সমস্যা দূর না হলে এবং ভালো ফ্র্যাঞ্চাইজি না পেলে বিপিএল না হওয়াই ভালো, তাতে অন্তত দেশের ক্রিকেটের দুর্নাম হবে না। এসব সমস্যার পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজির পাশাপাশি বোর্ডের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায় দেখেন তিনি।

তামিমের প্রশ্ন, ‘কেন আপনারা এই টিমগুলোকে দিচ্ছেন যাদেরকে নিয়ে অবজেকশন আছে? এটার পেছনে কি কারণ, কারা এটার সাথে জড়িত? এই জিনিসগুলো তুলে ধরার এটাই সময়। যদি (বিপিএল) পরিচ্ছন্ন করতে হয়, উপর থেকে নিচে পর্যন্ত প্রত্যেকটা জায়গায় ধরতে হবে। কারণ বিসিবি সব দিক থেকে এই জায়গাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

এসবে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা বা সব ঠিক না হলে বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত অন্তবর্তী বোর্ড নেবে কিনা, এমন এক প্রশ্নে তামিম বলেছেন, ‘একদমই না। আমি এই সিদ্ধান্ত নিব না। যেটা করার সময় আমার হাতে নেই ওরকম কোনো সিদ্ধান্ত আমি নিব না। তবে এই জিনিসগুলো প্রকাশ করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেন বিপিএল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এটা জানার অধিকার সবাই রাখে।’

তামিমের আশা ভবিষ্যতে যারাই বোর্ডে আসবেন, এ বিষয়টা মাথায় রাখবেন।



Loading...
Loading...

খেলাধুলা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: