দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর অবশেষে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে।
ইস্টার্ণ রিফাইনারি পিএলসি’র উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) মামুনুর রশীদ খান বলেন, অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) একটি চালান দেশে এসেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিকেল ৫টার পর পরিশোধন কার্যক্রম আবার শুরু হবে। প্রথমদিকে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। শুরুতে কারিগরি সমন্বয়ের প্রয়োজন হওয়ায় উৎপাদন কম রাখা হচ্ছে। যা পরবর্তী সময় ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, শোধনাগারের জন্য সৌদি আরব থেকে আসা এমটি নাইনেমিয়া জাহাজ কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে। এতে ১ লাখ ৯৪ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে।
ইস্টার্ণ রিফাইনারী পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, দেশে অপরিশোধিত তেলের একটি চালান এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে।
ইস্টার্ণ রিফাইনারি সূত্র জানায়, বর্তমান যে পরিমাণ মজুত তেল রয়েছে, তা দিয়ে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ দিন পরিশোধন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। পরবর্তী অপরিশোধিত তেলের চালান চলতি মাসের ২০ তারিখের পর আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সৌদি আরব থেকে চলতি মাসের ১০ থোক ১২ তারিখের মধ্যে নতুন চালান লোডিং হলে সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। পরবর্তী চালানেও প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আসতে পারে। তা জাহাজের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।
রিফাইনারি সূত্র আরও জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চ ও এপ্রিলে অপরিশোধিত তেলের কোনো জাহাজ দেশে আসতে পারেনি। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাহাজ আসতে না পারায় রিফাইনারির মজুত দ্রুত কমে যায়। বাধ্য হয়ে উৎপাদনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। তেল পরিশোধন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে নতুন জাহাজ পৌঁছানোকে বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।