প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, নির্ভুল তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বৈষম্য ও ভ্রান্ত তথ্য মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরামের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার রাউন্ড টেবিল-৪ এ সহ-সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের শুধুমাত্র শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, বরং অধিকারসম্পন্ন মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি অভিবাসন সংক্রান্ত নির্ভুল, বিশ্লেষণভিত্তিক ও তুলনাযোগ্য তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বহুমুখী সেবাকেন্দ্র, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে অভিবাসনের প্রতিটি ধাপে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
তিনি গৃহকর্মী, কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা তুলে ধরে শোষণ ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রতিরোধে অধিকারভিত্তিক নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।
এছাড়া জেনোফোবিয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যভিত্তিক অভিবাসনবিরোধী প্রচারণা মোকাবেলায় জবাবদিহিতা, ডিজিটাল সচেতনতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জনআলোচনা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বৈশ্বিক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় “সমগ্র সরকার ও সমগ্র সমাজ” ভিত্তিক সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে অভিবাসীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।