দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন তালিকা ধরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে বহু অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সক্রিয় চাঁদাবাজ চক্রগুলোর নেটওয়ার্ক শনাক্তের কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ অভিযানে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য ইউনিট অংশ নিচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মহানগর থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত তালিকা হালনাগাদ করে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে রাজধানীতে ৫৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক হয়েছেন ১৭৩ জন। এছাড়া ছিনতাই, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, কোনো ধরনের তদবির বা প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজদের ছাড় পাওয়া সম্ভব হবে না। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, কাউকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে জানানো হয়েছে, চাঁদাবাজি, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযান দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়া হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে শত শত প্রভাবশালী চাঁদাবাজের তথ্য উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে অনেকের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকায় আইন প্রয়োগে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
এদিকে কুমিল্লায় এক রাজনৈতিক নেতার গ্রেফতার নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যদিও পরে মুচলেকার ভিত্তিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে ঘটনাটি সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর মিরপুর এলাকাতেও বড় ধরনের চাঁদাবাজ চক্রের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাত ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান এই অভিযান শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয়; বরং চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।