আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। হামলার সময় হাসপাতালটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বলেন, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টার দিকে কাবুলের পুনর্বাসন হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। এতে হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুউল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এই কর্মকাণ্ড সব স্বীকৃত আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থি এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ জানিয়েছে, কাবুলের নবম পুলিশ জেলায় অবস্থিত এই মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাবুলে কোনো হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কাবুল এবং নাঙ্গারহার প্রদেশে কেবল সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘নির্ভুল বিমান হামলা’ চালিয়েছে।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। চলতি বছরের এই সংঘাতকে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে তীব্র বিবেচনা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, তোলো নিউজ