ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত মিসাইলের ঘাটতিতে পড়েছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সেমাফর মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বর্তমানে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগেই ইসরায়েল এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছিল। কারণ এর আগের সংঘাতগুলোতে বিপুল পরিমাণ প্রতিরোধী মিসাইল ব্যবহার করায় দেশটির মজুত আগেই সীমিত হয়ে পড়েছিল।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র আগেই অবগত ছিল এবং কয়েক মাস ধরে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আসছিল। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মিসাইল মজুত এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন মজুতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইসরায়েলের দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ইরান তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার শুরু করায় প্রতিরোধী মিসাইল দ্রুত ব্যয় হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়াতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy-এর সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার দিকে অন্তত ৫০ দফার বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এসব হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েল যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে প্রতিরোধী মিসাইলই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।
অন্যদিকে ইসরায়েলের বহুল আলোচিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা Iron Dome মূলত স্বল্পপাল্লার রকেট ও মর্টার হামলা প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় আলাদা ও অধিক শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা ধরে রাখা ইসরায়েলের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।