ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) এ বিএনপি, ১১দলীয় জোট, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীরা অংশ নেন।
এর মধ্যে দুই নারী প্রার্থী কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার ও বিপ্লবী ওর্য়াকার্স পার্টির প্রার্থী চম্পা রানী সরকার কাঙ্ক্ষিত ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান। জলি তালুকদার কাস্তে প্রতীকে ৩হাজার ৩৫৯ ও বিপ্লবী ওর্য়াকার্স পার্টির কোদাল প্রতীকে চম্পা রানী সরকার পেয়েছেন ২৮২ভোট। এছাড়াও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মুখলেসুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ২৫ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
এদিকে, ১লাখ ৬০হাজার ৮০১ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির আলোচিত নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামির মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৩০৯ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নেত্রকোণা-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা হল ৩লাখ ৭৫হাজার ৩১২জন। বৈধ ভোট পড়েছে ২লাখ ৬হাজার ৩০৭জন। বাতিল হয়েছে ৬হাজার ১০৬ভোট। শতকরা ভোট পড়েছে ৫৬দশমিক ৬০ভাগ। কোনো প্রার্থী কাস্টিং বৈধ ভোটের অন্তত ১২.৫শতাংশ ভোট পাওয়া পেলে জমানত ফেরত পাবেন। সেই হিসেবে ২৫ হাজার ৭৮৮টি ভোট পাওয়ার প্রয়োজন ছিল।
মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম তালুকদার জানান, নেত্রকোণা-৪ এ এবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন হাওর বাসীর নয়নের মনি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। অতীতে তিনি হাওর এলাকার বেশ উন্নয়ন করেছেন। এলাকার অসংখ্য লোকের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করেছেন। তাই উনার সাথে নির্বাচন করে অনেক দল জামানত হারিয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, কোন প্রার্থী কাস্টিং বোর্ডের ৮ভাগের একভাগ ভোট পেলে তার জমানা জামানত রক্ষা হয়। অন্যথায় তা ফেরত পাবেন না। এ হিসেবে নেত্রকোণা-৪ আসনের জলি তালুকদার ও চম্পা রাণী কাঙ্ক্ষিত ভোট না পাওয়ায় তারা জামানত ফেরত পাবেন না।