নির্বাচনের শেষ সময়ে ভোটের মাঠে প্রার্থীদের সরব প্রচারণা থাকার কথা থাকলেও সদর-বিজয়নগর উপজেলা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ আসনে একচ্ছত্র আধিপত্য কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের। বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী এনসিপি’র মো. আতাউল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নিয়াজুল করিম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. আবু হানিফ (আপেল), স্বতন্ত্র মো. ওমর ইউসুফ খান (হরিণ), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ আয়েশা আক্তার (চেয়ার) প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় থাকলেও একসময় বিএনপি’র দখলে থাকা এই ভোটের মাঠে তেমন সাড়া ফেলতে পারছেন না তারা । তাছাড়া এই প্রার্থীদের প্রায় সবাই নতুন এবং সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী না হওয়ায় ফলাফল অনেকটাই পরিষ্কার ভোটারদের কাছে। ১৭ বছর ধরে হাতছাড়া এই আসন পুনরুদ্ধারে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা কাজ করছেন দিনরাত।
জানা যায়,২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র ৫ বারের এমপি হারুন আল রশিদ হেরে যান আওয়ামী লীগের এডভোকেট লুৎফুল হাই সাচ্চুর কাছে। নির্বাচিত হওয়ার ২ বছর পর সাচ্চুর মৃত্যুতে ২০১১ সালে হওয়া উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে আসেন বিএনপি’র তরুণ নেতা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে আবারো দলের মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে নানা বাধার মুখে প্রচারণা চালাতেই ব্যর্থ হন। নির্বাচনী সহিংসতায় তার ঘরবাড়িতেও আগুন দেয়া হয় সে সময়। ভোটে হারলেও এই সময়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং ভোট রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করে তোলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র অর্থনৈতিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
তিনি বলেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে আমরা জনগণের সঙ্গে আছি। তাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা প্রথম দিকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন করেছি। তাতে সফল হয়েছি। ফ্যাসিস্টের বিদায় হয়েছে। জনগণ তারেক রহমানের প্রতি আস্থাশীল। আমরা আশা করছি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারই নেতৃত্বে জনগণের ভোটে বিএনপি আগামী দিনে সরকার গঠন করবে।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে জাতীয় পার্টি এই নির্বাচনে ভোটের মাঠে এসেছে। অন্য এলাকাতে নানা ঝামেলা থাকলেও এই আসনে দলের নেতাকর্মীরা স্বাচ্ছন্দ্যেই প্রচারণা চালাচ্ছে। আশা করছি ১২ তারিখ নির্বাচনে ভালো ফল পাবো। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নিয়াজুল করিম বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তৃণমূলে বিচরণ করছি। জনগণের যে অবস্থা লক্ষ্য করছি সত্যিকার অর্থে তারা পরিবর্তন চান। ইনশাআল্লাহ এবার ইসলামপন্থিদের জয় হবে। নীরব ভোট বিপ্লবের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এনসিপি’র মো. আতাউল্লাহ।
তবে ভোটাররা বলছেন, এখানে হাওয়া একতরফা। শহরের দাতিয়ারার বাসিন্দা মো. চপল বলেন, সারা দেশের মধ্যে এখানে ব্যতিক্রম। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষণ দেখছি না। একই এলাকার ফিরোজ মিয়া বলেন, সদরে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো তেমন কিছু আমার চোখে পড়ে না। বিজয়নগর উপজেলার আওলিয়া বাজারে কথা হয় স্থানীয় শিশির আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে তেমন কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে না। আমাদের বিজয়নগরের অধিকাংশ মানুষ একদিকে ঝুঁকে গেছে। শিক্ষা দীক্ষা,মেধা,যোগ্যতা সবমিলিয়ে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে আছে। আর আসনটি জামায়াত এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ায় এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। তাছাড়া বিএনপি প্রার্থী দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামে তার নেতাকর্মীসহ জনগণের পাশে ছিলেন। সেজন্য তার অবস্থান এখানে সুদৃঢ় বলেই মনে হচ্ছে। অন্য কোনো প্রার্থীদের তেমন প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে না। শিশিরের মতো অন্য ভোটারদেরও প্রায় একই মত। সবারই ধারণা এখানে মোটামুটি একতরফা নির্বাচন হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এবং বিজয়নগর উপজেলা নিয়ে এই নির্বাচনী আসনের মোট ভোটার ৬ লাখ ১৪ হাজার ৯০৮ জন।