ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, আপোষহীন মহান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। জাতিধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। রাজনীতির মধ্যদিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন অনন্য সাধারণ রাষ্ট্রনায়ক। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। শিক্ষা স্বাস্থ্য অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের সকল খাতে তাঁর স্পর্শে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে তাঁর ছিল নিবিড় যোগাযোগ।
ড. মামুন আহমেদ রোববার জাতীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জাসাসের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐক্য জোট এর সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নার সভাকক্ষে আয়োজিক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। স্মরণসভায় বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর আলোকপাত করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, লেখক ও গবেষক মাহবুব হাসান, মুক্তচিন্তা বাংলাদেশের আহব্বায়ক ড. আবুল কাসেম হায়দার, জাসাসের সাবেক সভাপতি এম এ মালেক, নাট্যব্যক্তিত্ব বাবুল আহমেদ, ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের মহাসচিব মো. রফিকুল ইসলাম, সারেঙ সম্পাদক আবদুর রহমান মল্লিক, কবি শাহ সীদদীক প্রমুখ।
স্মরণসভায় ড. আসাদুজ্জামান বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামে বেগম জিয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকা, রাষ্ট্রনায়কোচিত মনোভাব, দেশপ্রেম, আপোষহীনতা, অনঢ় ব্যক্তিত্ব বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করেছে। তাঁর শূণ্যতা কোনেদিন পূরণ হবার নয়।
সভাপতির বক্তব্যে রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী বেগম জিয়ার সঙ্গে আন্দোলন সংগ্রামে বেগম জিয়ার সাহস, দৃঢ়তা প্রজ্ঞার বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বলেন, বেগম জিয়া সত্যিকার অর্থে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তিনি যে সীমাহীন কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করেছেন তা নজীরবিহীন। তাঁর দেখানো পথে আমরা অটল থাকতে পারলে এই স্মরণসভার উদ্দেশ্য সার্থক হবে।
ড. মাহবুব হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, মানুষের চিরন্তন আকাক্সক্ষা হচ্ছে গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রের সংগ্রামে আপোষহীন ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যম তাঁকে দেশনেত্রী ও আপোষহীন নেত্রীর অভিধায় অভিষিক্ত করেছে। তাঁর দেশপ্রেম, তাঁর অপরিসীম ত্যাগ প্রশ্নাতীত।
সংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, বেগম জিয়ার অবর্তমানে তাঁর স্মৃতি হাতড়ে বেড়াই। একজন অভিভাবককে আমরা হারিয়ে ফেলেছি। বেগম জিয়া আমাকে কৃতজ্ঞ করেছেন। গৌরবান্বিত করেছেন। তাঁর হাত থেকেই আমি একুশে পদক গ্রহণ করেছি। আমার জীবনে এক উজ্জ্বল মানুষের নাম বেগম খালেদা জিয়া।
ড. আবুল কাসেম হায়দার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি থাকাকালে কখনো কারো ওপরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি। তিনি সবার যৌক্তিক মতামতকে গুরুত্ব দিতেন। তাঁর সকল কাজে প্রাধান্য পেতো জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ। আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তাঁর ভূমিকা ও আদর্শকে ধারণ করতে হবে।
জাসাসের সাবেক সভাপতি এম এ মালেক বলেন, মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া আমাদের আত্মার প্রতিধ্বনি করে গেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার ঘটনা খুব কাছে থেকে প্রত্যক্ষ করেছি। বৈরী সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় তাঁর মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপিকে তিনি তাঁর প্রজ্ঞা দিয়ে দেশের বৃহত্তম দলে পরিণত করেছেন। তিনি ছিলেন জাতীর আশা আকাক্সক্ষার বাতিঘর।
ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি বলেন, আমরা যে সব নারী বিশেষ করে যারা আমরা রাজনীতি করি তাদেরকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রের সংগ্রামের ঐতিহাসিক ভূমিকাকে মনে রাখতে হবে। নারী শিক্ষা এবং নারীর উন্নয়নে তাাঁর ভূমিকা অগ্রগন্য।
সাংস্কৃতিক সংগঠক রফিকুল ইসলাম বলেন, বেগম জিয়ার সংগ্রামী জীবন আমাদের যুগ যুগ ধরে পধ দেখাবে। অদম্য ও মহীষসী এই নারী আমাদের আলোকবর্তিকা। তাঁকে অনুসরণের মধ্য দিয়ে সৃদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বেগম জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। স্মরণসভায় বিশিষ্টজনেরা খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক বইয়ে সাক্ষর করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন কবি নাজমুল হোসাইন ও নাট্যজন নূর হোসেন রানা ।