ই-পেপার বাংলা কনভার্টার সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ ৯ বৈশাখ ১৪৩১
ই-পেপার সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪
ব্রেকিং নিউজ: নতুন করে সারাদেশে ৭২ ঘণ্টার হিট অ্যালার্ট জারি      তীব্র তাপদাহের কারণে স্কুল-কলেজের ছুটি ৭দিন বাড়ছে      প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭ দিন বন্ধ ঘোষণা      আ.লীগের সব রকম কমিটি গঠন ও সম্মেলন বন্ধ : ওবায়দুল কাদের      জলবায়ু পরিবর্তনে অধিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ      ঢাকার পাঁচ রুটে চলবে পাতালরেল      




রওশনের নেতৃত্বে নতুন জাপার পথ চলা শুরু,সঙ্গী ফিরোজ-বাবলা
আবারো ভাঙলো এরশাদের জাতীয় পার্টি
সুজন দে
Published : Saturday, 9 March, 2024 at 6:34 PM
আর এক দফা ভাঙ্গনের কবলে পড়লো প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গড়া জাতীয় পার্টি। শনিবার (৯ মার্চ) জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ অনুসারীদের ডাকা জাতীয় সম্মেলনে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সহধর্মিণী রওশন এরশাদ। এতে মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদ ও নির্বাহী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কাজী ফিরোজ রশীদ। এছাড়া সিনিয়র কো:চেয়ারম্যান  করা হয়েছে ঢাকা -৪ আসনের সাবেক সাংসদ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে। 

অন্যান্য কো:চেয়ারম্যানরা হলেন, সাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, আল মাহগির শাদ এরশাদ, গোলাম সারোয়ার মিলন ও সুনীল শুভ রায়।  মুলত এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বেগম রওশন এরশাদের নেতৃত্বে নতুন জাপার পথ চলা শুরু হয়েছে। 

গতকাল দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জাপার কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ। পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে রওশন এরশাদের নাম ঘোষণা করলে উপস্থিত কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা দুহাত উঠিয়ে তা সমর্থন জানান। এরপর দলের অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর দলের অন্য সিনিয়র নেতাদের নাম ঘোষণা করেন।  এই নেতাদের নাম ঘোষণার পর উপস্থিত কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের কাছে মহাসচিব হিসেবে কাজী মামুনুর রশীদের নাম ঘোষণা করেন গোলাম সারোয়ার মিলন। এতে উপস্থিত সবাই তা সমর্থন করেন । এ ঘোষণার আগে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি নেন রওশন এরশাদ।

সম্মেলনে  সভাপতির বক্তব্যে রওশন এরশাদ বলেছেন, আজ যদি এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হতো তাহলে জাতীয় পার্টি হারিয়ে যেত। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আমরা হারিয়ে ফেলতাম। দেশের মানুষ জাতীয় পার্টির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিত।  তিনি বলেন, আজ আমার রাজনৈতিক জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। আমার গড়া প্রাণপ্রিয় সংগঠন জাতীয় পার্টি- এই রকম একটি ঐতিহাসিক সম্মেলন আয়োজন করতে পেরেছে দেখে- আমার হৃদয়ের কানায় কানায় আনন্দ ভরে গেছে। এই সম্মেলন আয়োজনের জন্য জাতীয় পার্টির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আজ যদি এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হতো তাহলে জাতীয় পার্টি হারিয়ে যেত।   রওশন বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ এদেশে যে নতুন ধারার ইতিবাচক রাজনীতির প্রবর্তন করে ছিলেন সেই রাজনীতি হারিয়ে যেতে বসেছিল। 

আজ এই দশম সম্মেলনের মাধ্যমে পল্লীবন্ধু এরশাদের নীতি-আদর্শ এবং উন্নয়ন-সমৃদ্ধি ও সংস্কারের রাজনীতি পুনঃ:প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের মনে আবার আমরা বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি এই সম্মেলনের মাধ্যমে।

 তিনি বলেন, আমরা অনেক প্রতিক‚ল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এখনও টিকে আছি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর যখন একটু ঘুরে দাঁড়ালাম, তখন আমাদের দলীয় প্রতীক লাঙ্গল নিজেদের আয়ত্তে রাখার জন্য আদালতে দাঁড়াতে হয়েছিল। মাননীয় আদালতের সুবিচারে পল্লীবন্ধু এরশাদ এবং আমি রওশন এরশাদ লাঙ্গল প্রতীক জাতীয় পার্টির জন্য বরাদ্দ পেয়েছিলাম। সেই লাঙ্গল প্রতীক এখনো আমাদের জাতীয় পার্টির অনুক‚লে আছে এবং আগামীতেও থাকবে ইনশা আল্লাহ।

এর আগে জাতীয় সংগীত এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়।  শুরুতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মৃধা।  সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটসহ মৎস্যভবন এবং শাহবাগ এলাকা।   নানা রংবেরঙের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে সম্মেলনস্থল, সড়কদ্বীপগুলোতে লাগানো হয়েছে এরশাদ শাসনামলের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের ছবি সম্বলিত ফেস্টুন।   নির্মাণ করা হয় দ্বিতল বিশিষ্ট মঞ্চ। ১২ হাজারের বেশি কাউন্সিলর এবং ডেলিগেট উপস্থিত ছিলো বলে দাবী করেছেন আয়োজকরা। সম্মেলনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেপির মহাসচিব শেখ শহিদুর ইসলাম, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম এ মতিন ও বিএলডিপি চেয়ারম্যান এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় পার্টিতে নতুন করে বিভক্তি দেখা দেয়। দেবর জিএম কাদেরের সঙ্গে মতবিরোধে গত সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন নিজে এবার নির্বাচনে অংশ নেননি। তার অনুসারীদের কাউকেই মনোনয়ন দেয়নি জাতীয় পার্টি।    নির্বাচনের পর পার্টি থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ কয়েকজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়, যারা রওশনপন্থি হিসেবে পরিচিত। এরপর গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ অভিযোগ এনে ৬৭১ জন নেতাকর্মী পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

সেই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ জানুয়ারি এক মতবিনিময় সভায় রওশন নিজেকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করে বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে ‘অব্যাহতি’ দেন। তবে রওশনের ওই দাবি ‘আমলে নেননি’ জিএম কাদের বা চুন্নু। এরমধ্যে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জিএম কাদেরকে এবং উপনেতা হিসেবে কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে স্বীকৃতি দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।





আরও খবর


সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭, ০১৭১২-৮৮৪৭৬৫
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭, ০১৭১২-৮৮৪৭৬৫
ই-মেইল : [email protected], [email protected]