মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা ৩৭ একর বনভূমি দখলমুক্ত করেছে সিলেট বন বিভাগ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) পরিচালিত অভিযানে দখলে থাকা গরুর খামার ও লেবুবাগান উচ্ছেদ করা হয়। এ ছাড়া মাছ চাষের জন্য তৈরি আটটি জলাধারের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়। বন বিভাগের এ অভিযানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বনভূমি দখল এবং বনাঞ্চলের ভেতরে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এর আগে লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বনভূমি দখল, অবৈধভাবে কৃষিকাজ ও স্থাপনা নির্মাণ, গাছ কাটা, বনজ সম্পদ ধ্বংস এবং হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকারের অভিযোগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান। অভিযোগে শুকনাছড়া গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মো. রইছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনুমানিক ২০ হেক্টর বনভূমি দখল করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগে বনাঞ্চলের গভীরে বসতবাড়ি নির্মাণ, লেবুবাগান ও গরুর খামার স্থাপন এবং একাধিক বড় জলাধার তৈরি করে মাছ চাষের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী শিকার, গাছ কাটা ও বনজ সম্পদ পাচারের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বনভূমি উদ্ধারের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শনিবার লাঠিটিলা বিটের ৩৭ একর বনভূমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে রইছ উদ্দিনের দখলে থাকা লেবুবাগান উচ্ছেদ এবং মাছ চাষের জন্য তৈরি আটটি জলাধারের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালনা করেন জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদউদ্দিন। এতে নেতৃত্ব দেন লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা মো. সাজন।
লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা মো. সাজন বলেন, ‘দখলকৃত ৩৭ একর বনভূমি এখন আমাদের দখলে ফিরে এসেছে।’
জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদউদ্দিন বলেন, ‘লাঠিটিলা বনের মোট ৩৭ একর বনভূমি উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বনের অন্যান্য অবৈধ দখলও উচ্ছেদ করা হবে।’
এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে অভিযুক্ত রইছ উদ্দিন বলেন, ‘আমি লাঠিটিলা বিটের প্রথম সারির ৪ নম্বর ভিলেজারের সন্তান। লাঠিটিলা বনে অনেকেরই অবৈধ দখল রয়েছে। আমি একা কী অপরাধ করেছি? উচ্ছেদে আমি বিচলিত নই। তবে আমার দাবি, লাঠিটিলা বনে কারও যেন কোনো অবৈধ দখল না থাকে।’
উল্লেখ্য, লাঠিটিলা পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বনাঞ্চলটি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, বনভূমি দখল, গাছপালা ধ্বংস ও জলাধার নির্মাণের কারণে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ৩৭ একর নয়, লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কোথায় কোথায় অবৈধ দখল রয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে জরিপ করে সব দখল উচ্ছেদ করতে হবে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে গাছ কাটার ও শিকারের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।