গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় মধুমতি নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। ইতোমধ্যে পাংখারচর এলাকায় প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরও শত শত বিঘা ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি। এতে জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। দ্রুত ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পাংখারচর গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেন (৪৫)। নিজের তিন বিঘা জমির পাশাপাশি অন্যের চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করতেন তিনি। সাত বিঘা জমির ফসলের ওপর নির্ভর করেই চলত তাঁর সংসার। কিন্তু মধুমতি নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে চার বিঘা জমি হারিয়েছেন তিনি। বাকি জমিটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। শুধু জামাল হোসেন নন, উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের পাংখারচর এলাকায় নদীভাঙনে অসংখ্য কৃষক জমি হারিয়েছেন। এখনও কয়েক শ কৃষক তাঁদের অবশিষ্ট জমি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাংখারচর এলাকায় মধুমতি নদীতে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও শত শত বিঘা ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি। এসব জমিতে বোরো ও আমন ধানের পাশাপাশি কোথাও কোথাও আখসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, ‘ভাঙন রোধ করা না গেলে আমাদের শেষ সম্বলটুকুও রক্ষা করতে পারব না। মধুমতি নদী ধীরে ধীরে আমাদের সব জমি গ্রাস করে নিচ্ছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে অনেক কৃষককে পথে বসতে হবে। জমি হারালে আমাদের আর বেঁচে থাকার কোনো অবলম্বন থাকবে না। আমরা গরিব মানুষ, জমিটুকুই আমাদের একমাত্র সম্বল। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, দ্রুত নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করুন। তা না হলে আমাদের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি সবই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’
কৃষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘চোখের সামনে আবাদি জমি নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। কিছুই করতে পারছি না। এই জমি চাষাবাদ করেই আমাদের সংসার চলে। একের পর এক জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। বাকি জমিটুকুও হারানোর ভয় করছি। জমি না থাকলে পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব, কী খেয়ে চলব? নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের জমিগুলো রক্ষা করা হোক।’
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হাসান আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই এবং এ বছর পর্যাপ্ত বরাদ্দও নেই। আগামীতে বরাদ্দ পেলে ভাঙনকবলিত এলাকায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’