
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা ও দীপাবলি আজ রোববার (৮ নভেম্বর)। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দেশজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে শ্যামা মায়ের আরাধনা ও আলোর উৎসব দীপাবলি।
উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঘরে ঘরে পূজার আয়োজনের পাশাপাশি মন্দিরগুলো সাজানো হচ্ছে আলোকসজ্জায়। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবে যোগ দেবেন ভক্তরা।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১টা ২ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হয়ে সোমবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে শেষ হবে। সাধারণত অমাবস্যার রাতে অনুষ্ঠিত হয় শ্যামাপূজা, যা কালীপূজা নামেও পরিচিত। একই তিথিতে অনেক ভক্ত লক্ষ্মীপূজারও আয়োজন করেন।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী শ্যামা শক্তি, সাহস ও অশুভ বিনাশের প্রতীক। অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে সত্য, শুভ ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে এ পূজা উদযাপন করা হয়। অন্যদিকে দীপাবলি পরিচিত আলোর উৎসব হিসেবে। এদিন সন্ধ্যায় বাড়ি, মন্দির ও বিভিন্ন স্থানে প্রদীপ জ্বালিয়ে আলোকিত করা হয় চারপাশ।
বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে উৎসবটি দীপাবলি নামে পরিচিত হলেও অবাঙালি হিন্দুদের মধ্যে ‘দিওয়ালি’ নামটি প্রচলিত। ধর্মীয়ভাবে এটি ‘দীপান্বিতা কালীপূজা’ নামেও পরিচিত। বাঙালি, অসমীয়া ও ওড়িয়া হিন্দুরা এ তিথিতে বিশেষভাবে কালীপূজা পালন করেন।
শ্যামাপূজার অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে সন্ধ্যায় বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্বালন করে প্রয়াত বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনদের স্মরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অনেকে।
এদিকে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, পুরান ঢাকার রাধাগোবিন্দ জিউ ঠাকুর মন্দির, পোস্তগোলা মহাশ্মশান, তাতীবাজার, শাঁখারীবাজার ও বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রদীপের আলো ও ভক্তদের প্রার্থনায় আজ সারা দেশে উদযাপিত হবে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি।