
মহানবমী দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি। এদিন ভক্তরা দেবীর উদ্দেশে পূজা নিবেদন, অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণ করেন। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মহাআরতি, নবমী হোমসহ নানা ধর্মীয় আচার পালিত হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, কোথাও কোথাও দেবীর পূজায় ১০৮টি নীলপদ্ম নিবেদনের আয়োজনও থাকে।
উৎসবের এই দিনে ভক্তদের মধ্যে যেমন আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকে, তেমনি ঘনিয়ে আসে বিদায়ের আবহ। কয়েক দিনের পূজা, প্রার্থনা ও মিলনমেলার পর দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয় মণ্ডপে মণ্ডপে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
সন্ধিপূজার রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য
দুর্গাপূজার আচার-অনুষ্ঠানে সন্ধিপূজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিটের মধ্যবর্তী সময়কে সন্ধিক্ষণ বলা হয়। এই সময়ে দেবী চামুণ্ডার আরাধনায় সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রচলিত প্রথা অনুসারে, এ পূজায় ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বালন ও ১০৮টি পদ্মফুল নিবেদন করা হয়।
হিন্দুশাস্ত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, দেবী দুর্গা চণ্ড, মুণ্ড ও রক্তবীজসহ অসুরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রুদ্ররূপ ধারণ করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দুর্গাপূজার বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়।
কাল বিজয়া দশমী
গত শনিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। মহাসপ্তমী ও মহাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে আজ মহানবমীতে দেবীর আরাধনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ভক্তরা। আগামীকাল বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পূজা শেষে দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরে যাবেন। দেবীর বিদায়ের মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপগুলোতে নেমে আসবে বিষাদের আবহ। একই সঙ্গে ভক্তরা আগামী বছরের দুর্গোৎসবের অপেক্ষায় দিন গুনবেন।