
মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান আচার নবপত্রিকা স্থাপন, যা প্রচলিতভাবে ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। কলাগাছের সঙ্গে কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ একত্রে বেঁধে স্নান করিয়ে নতুন শাড়িতে সাজিয়ে মণ্ডপে স্থাপন করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসে এসব উদ্ভিদ দেবীর নয়টি শক্তির প্রতীক।
নবপত্রিকার মাধ্যমে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতার বার্তাও উঠে আসে। মানুষের খাদ্য, কৃষি ও জীবনযাপনে প্রকৃতির অবদানের কথা স্মরণ করে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে এ আচার।
সপ্তমীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব দেবীর মহাস্নান। গঙ্গাজল, দুধ, মধু ও সুগন্ধি উপাদান দিয়ে এ আচার সম্পন্ন করা হয়, যা শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
পুরাণে মহিষাসুর বধ শুভ ও অশুভের লড়াই এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের বিজয়ের প্রতীক। সেই বার্তাকে ধারণ করে উৎসবের এই দিনে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করছেন ভক্তরা।
বাংলাদেশে দুর্গাপূজা ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধারও প্রতীক। নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করাই উৎসবের অন্যতম প্রত্যাশা।