শিশুদের যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত উপকরণ নিজের কাছে সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর থমাস মার্কেল। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পোল্ক কাউন্টি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। পরে তাঁকে টাম্পার একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়। আদালত জামিন দিলেও তাঁর ওপর ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্ত আরোপ করেছে।
৮২ বছর বয়সী থমাস মার্কেল ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পোল্ক কাউন্টির একটি প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে এফবিআই হেফাজতে নেওয়া হয়।
এফবিআইয়ের দাখিল করা ১৪ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় প্রায় দুই দশক ধরে দুটি স্টোরেজ ইউনিট ভাড়া নিয়ে সেখানে শিশুদের যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত উপকরণ সংরক্ষণ করেছিলেন থমাস। সম্প্রতি ওই দুটি স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে ৭৮টি বস্তু জব্দ করেন তদন্তকারীরা।
উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ছবি, স্লাইড, ফিল্মের নেগেটিভ ও বই। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জব্দ করা কিছু ছবিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সঙ্গে থমাস মার্কেলকে দেখা গেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের আগে আদালতে দাখিল করা হলফনামায় বলা হয়েছে, উদ্ধার করা দুটি ছবিতে থাকা ব্যক্তিকে একজন সাক্ষী থমাস মার্কেল হিসেবে শনাক্ত করেছেন। ছবিগুলোতে একজন নগ্ন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায় বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব উপকরণ বর্তমানে পরীক্ষা করে দেখছেন এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে অভিযোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, মার্কেল শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। শিশুদের সুরক্ষায় সংস্থাটি সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগাবে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে এফবিআই কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তদন্তে যুক্ত লস অ্যাঞ্জেলেস ও টাম্পার এফবিআই সদস্যদের পাশাপাশি মেক্সিকো, ফিলিপাইন ও মার্শাল আইল্যান্ডসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্যাটেল।
মামলাটি ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা বনাম থমাস ওয়েইন মার্কেল’ নামে নথিভুক্ত হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি বিল এসাইলি অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ফেডারেল আইনের আওতায় মামলাটির বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে আদালতে অভিযোগ দাখিল ও গ্রেপ্তার হওয়া মানেই দোষ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ফার্স্টপোস্ট