ইরানের কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটিকে শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পরে সেটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
সামরিক বিবৃতিতে ড্রোনটিকে ‘আগ্রাসী মার্কিন শত্রুর’ বিমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ আখ্যা দিয়েছে তেহরান।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কৌশলগত অবস্থানের কারণে কেশম দ্বীপ সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে অবস্থিত দ্বীপটি দেশটির সবচেয়ে বড় দ্বীপ। হরমুজ প্রণালির উত্তর প্রবেশপথের কাছাকাছি হওয়ায় পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যকার নৌ চলাচলের ক্ষেত্রেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে কেশম দ্বীপ ও আশপাশের জলসীমায় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি আগেও একাধিকবার করেছে ইরান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। জুনে পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সংঘাতের স্থায়ী অবসান এখনো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।