১৩ নভেম্বর ধ্বংস হবে পৃথিবী? ৬৬ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

আর মাত্র কয়েক দিন পর ১৩ নভেম্বর। দিনটিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ৬৬ বছর আগের এক বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী। ১৯৬০

2026-11-07T11:41:43+00:00
2026-11-07T11:41:43+00:00
  শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬,
২৩ কার্তিক ১৪৩৩
 
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
১৩ নভেম্বর ধ্বংস হবে পৃথিবী? ৬৬ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে চাঞ্চল্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ এএম 
ফাইল ছবি
আর মাত্র কয়েক দিন পর ১৩ নভেম্বর। দিনটিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ৬৬ বছর আগের এক বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী। ১৯৬০ সালে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবীর জনসংখ্যা এতটাই বেড়ে যাবে যে মানবসভ্যতা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তবে গবেষণাটির এই পূর্বাভাস বাস্তবে মেলেনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান প্রবণতাই প্রমাণ করছে, পৃথিবী ধ্বংসের এমন আশঙ্কার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

গবেষণাপত্রটির রচয়িতা ছিলেন অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন অধ্যাপক ও সাইবারনেটিকস বিশেষজ্ঞ হাইঞ্জ ফন ফোরস্টার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুই গবেষক প্যাট্রিসিয়া এম. মোরা ও লরেন্স ডব্লিউ. আমিট। তাঁরা প্রায় দুই হাজার বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করেছিলেন।

গবেষকদের ধারণা ছিল, বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকায় একসময় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বরের মধ্যে জনসংখ্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা কার্যত অসীমের কাছাকাছি। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে খাদ্য, সম্পদ ও জীবনধারণের সংকট তৈরি হয়ে মানবসভ্যতা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে—এমনটাই ছিল তাঁদের আশঙ্কা।

ষাটের দশকে এই গবেষণা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘টাইম’ ও ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এও বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এমনকি জনপ্রিয় পোগো কমিক স্ট্রিপেও গবেষণাটির প্রভাব দেখা যায়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতেও জায়গা করে নেয় এই তত্ত্ব। তবে বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও জনসংখ্যাবিদদের একটি অংশ গবেষণাটির পদ্ধতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সমালোচনা সত্ত্বেও গবেষকেরা নিজেদের হিসাবের পক্ষে অবস্থান ধরে রাখেন।

পরবর্তী কয়েক দশকে তাঁদের গাণিতিক মডেল জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতার সঙ্গে অনেকটা মিলে যাওয়ায় তত্ত্বটি আরও গুরুত্ব পায়। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে অনেক জনসংখ্যাবিদের পূর্বাভাসের তুলনায় মডেলটি ভালো ফল দিচ্ছিল বলে মনে করা হয়। ১৯৬৩ সালে কানাডার একটি সংসদীয় কমিটি এবং ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি গর্ভপাত-সংক্রান্ত মামলাতেও বিষয়টি আলোচনায় আসে।

তবে নব্বইয়ের দশকে এসে গবেষণাটির পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্য স্পষ্ট হতে থাকে। ১৯৯৩ সালের দিকে বিশ্ব জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ওই গবেষণার নির্ধারিত গতিপথ থেকে পিছিয়ে পড়ে। এর অন্যতম কারণ ছিল বিশ্বজুড়ে জন্মহার কমে যাওয়া। বর্তমানে বৈশ্বিক জন্মহার ১৯৬০ সালের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।

কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান ম্যাকইচার্নও এই তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছেন। তাঁর বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা গবেষকদের অনুমান অনুযায়ী চলেনি। ফলে ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ধারণাটি বাস্তবসম্মত নয়; এটি একটি পুরোনো গাণিতিক মডেলের ভুল পূর্বাভাস মাত্র।

ষাটের দশকে পৃথিবী ধ্বংস নিয়ে আরও কিছু আলোচিত তত্ত্ব সামনে এসেছিল। মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মী ও ইউএফও গবেষক চ্যান থমাস তাঁর ‘দ্য অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ স্টোরি’ বইয়ে দাবি করেছিলেন, প্রতি ছয় হাজার বছর পরপর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। তাঁর আশঙ্কা ছিল, এমন পরিবর্তন আবার ঘটলে পৃথিবীতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

বইটি একসময় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর গোপন নথির অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৩ সালে নথিটি প্রকাশ্যে আনা হয়। তবে এসব দাবির পক্ষেও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার যে ভবিষ্যদ্বাণী ছয় দশকেরও বেশি আগে করা হয়েছিল, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। বরং জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তিত ধারা ও জন্মহার কমে যাওয়ার তথ্যই ওই পূর্বাভাসের অসারতা তুলে ধরে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: