ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের একটি জনাকীর্ণ বাজারে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। হামলার দায় নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও দেশটির সরকারি বাহিনী। হুথির দাবি, সৌদি আরবের বিমান হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে সরকারি বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বাজার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথিরাই।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-ওয়াজিয়া শহরের একটি বাজারে কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটে। হুথি গোষ্ঠীর দাবি, গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া তাদের সামরিক অভিযানের পর ওই এলাকায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হুথি পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি বলেন, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান বাজারটিতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। এতে ৩০ জন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি, সৌদি আরবের খামিস মুশাইত সামরিক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা একটি যুদ্ধবিমান থেকে হামলাগুলো চালানো হয়।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বলেছে, বাজারটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে তারা। তাইজের স্থানীয় কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে হামলার জন্য হুথিদের নির্বিচার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, ওই এলাকায় কোনো বিমান হামলার ঘটনা ঘটেনি।
দীর্ঘদিনের তুলনামূলক স্থিতিশীলতার পর গত জুলাইয়ে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সূত্র: এনডিটিভি