ছোটবেলায় শাবানা ও শাবনূরের সিনেমা দেখে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখতেন মাফতুহা জান্নাত। সেই স্বপ্নের পথচলা শুরু হয়েছিল নাচের মধ্য দিয়ে। পরে শিশুশিল্পী হিসেবে বিজ্ঞাপনে কাজ, সিনেমায় অভিনয়—সবই হয়েছিল অল্প বয়সে। তবে পড়াশোনার কারণে অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নিতে হয় তাঁকে। বিরতি কাটিয়ে ২০২৩ সালে আবারও অভিনয়ে ফেরেন তিনি। দর্শকের কাছে এখন তিনি পরিচিত ‘জিম’ নামে।
সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘দেবী’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান মাফতুহা। ছবিতে জয়া আহসান অভিনীত রানুর শৈশবের স্মৃতিচারণার অংশে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে সিনেমায় সেই অভিষেকের পর নিয়মিত অভিনয় করা হয়নি। পড়াশোনা শেষ করে নতুন করে পথচলা শুরু করেন জিম।
২০২৩ সালে বাবু সিদ্দিকীর পরিচালনায় ‘সিক্রেট গার্লফ্রেন্ড’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু। কীভাবে এই সুযোগ পেয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে জিম বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে নির্মাতা বাবু সিদ্দিকীর সঙ্গে পরিচয় হয়। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহের কথা জানার পর তিনি কাজের সুযোগ দেন।
এরপর মাবরুর রশিদ বান্নাহর ‘যত্ন’ নাটকে অভিনয় করেন জিম। তাঁর কাছে এই নাটকটি ছিল ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া কাজ। এতে ইরা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পান তিনি। এখনো অনেকে তাঁকে ইরা নামে ডাকেন। আরশ খানের সঙ্গে তাঁর জুটিও দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
এরপর সকাল আহমেদের ‘দোষটা কার?’ নাটকে অভিনয়ের সুযোগ আসে। এ কাজেও আরশ খানের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হন জিম। তবে এবার চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা তুলে ধরতে হয়েছিল তাঁকে। চেনা অভিনয়ধারা থেকে বেরিয়ে নতুনভাবে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পান। নাটকটি প্রকাশের পর দর্শক ও সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় বলে জানান অভিনেত্রী।
সাম্প্রতিক সময়ে ‘বিষপাখি’, ‘পেট্রোল’ ও ‘আহা একি মায়া’ নাটকে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জিম। তিনটি নাটকের গল্প ও চরিত্রে ভিন্নতা থাকায় প্রতিটি কাজই তাঁর কাছে ছিল আলাদা অভিজ্ঞতা।
জিমের ভাষ্য, দর্শক এখন একই ধরনের গল্প দেখতে চান না। রোমান্স, ড্রামা থেকে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার—বিভিন্ন ঘরানার গল্পে কাজ করার চেষ্টা করছেন তিনি। প্রতিটি চরিত্রে এমনভাবে অভিনয় করতে চান, যাতে সাধারণ দর্শক নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে চরিত্রের মিল খুঁজে পান।
নতুন অভিনয়শিল্পীদের কাজের সুযোগ পাওয়া নিয়েও কথা বলেছেন জিম। তাঁর মতে, অনেক নির্মাতা ও প্রযোজক নতুনদের নিয়ে কাজ করতে কিছুটা দ্বিধায় থাকেন। ফলে শুরুতে একই ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব বেশি আসে। অথচ নতুনদেরও প্রতিভা রয়েছে; তাঁদের বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী চরিত্রে কাজের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। নিজের ক্যারিয়ারের শুরুতেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি নাট্যকলার পড়াশোনা থেকেও অনেক কিছু শিখেছেন জিম। তাঁর মতে, অভিনয় কেবল সংলাপ বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চোখের ভাষা কিংবা শরীরের সামান্য অঙ্গভঙ্গিতেও চরিত্রের অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। অতিরঞ্জন এড়িয়ে কীভাবে চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হয়, তা বুঝতে পড়াশোনা তাঁকে সহায়তা করেছে। স্ক্রিপ্টের অন্তর্নিহিত ভাবনা অনুধাবন এবং পরিচালকের চাহিদা অনুযায়ী অভিনয় করতেও এর ভূমিকা রয়েছে।
ভবিষ্যতে কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চান—এমন প্রশ্নে নির্দিষ্ট কোনো নির্মাতার নাম উল্লেখ করেননি জিম। বরং বিভিন্ন নির্মাতার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তিনি। তবে চরিত্র নির্বাচনে বৈচিত্র্যকে প্রাধান্য দিতে চান। বিশেষ করে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা রয়েছে, এমন চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা তাঁর। মানুষের মনের নানা দিক পর্দায় তুলে ধরার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের শক্তিশালী নারীদের গল্পও অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে আনতে চান এই অভিনেত্রী।