ভারতীয় টেলিভিশন অভিনেত্রী সোনারিকা ভাদোরিয়া জানিয়েছেন, মাত্র ১০-১১ বছর বয়সে একটি রেস্টুরেন্টে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন তিনি। শৈশবের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা দীর্ঘদিন কাউকে বলতে পারেননি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জীবনের সেই তিক্ত স্মৃতি তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
‘দেবো কে দেব মহাদেব’, ‘তুম দেনা সাথ মেরা’, ‘পৃথ্বী বল্লভ’, ‘দাস্তান-এ-মোহব্বত: সেলিম আনারকলি’ ও ‘ইশক মে মরজাবা’র মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পান সোনারিকা। তবে পর্দার পরিচিতির আড়ালে তার জীবনে রয়েছে এমন এক অভিজ্ঞতা, যা আজও তাকে নাড়া দেয়।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় এক পাতানো দাদাকে রাখি পরাতে গিয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে একটি রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে রেস্টুরেন্টের এক ম্যানেজার তাকে একটি দরজা দিয়ে অন্য দরজায় নিয়ে যাওয়ার সময় মাঝের অন্ধকার জায়গায় আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন। ওই ব্যক্তি তার বুকে হাত দিয়েছিলেন বলেও জানান সোনারিকা।
ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তখন বয়স এতটাই কম ছিল যে, ঠিক কী ঘটেছে, তা বুঝে ওঠার মতো পরিস্থিতিতে ছিলেন না। ভয়ে ও অস্বস্তিতে পুরোপুরি চুপ হয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের কাউকে, এমনকি বাবাকেও বিষয়টি জানাননি।
সোনারিকা জানান, এখনো বাবাকে ওই ঘটনার কথা বলেননি তিনি। তার আশঙ্কা, বাবা বিষয়টি জানতে পারলে অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হবেন। এমনকি ওই ব্যক্তি জীবিত না থাকলেও তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে পারেন বলে মনে করেন অভিনেত্রী।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শৈশবের সেই ঘটনার প্রকৃত অর্থ ও ভয়াবহতা বুঝতে পারেন সোনারিকা। কৈশোরে একসময় মায়ের কাছে সব খুলে বলেন। মেয়ের মুখে এমন অভিজ্ঞতার কথা শুনে ভেঙে পড়েন তার মা। এত দিন কেন বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন, তা জানতে চান তিনি। জবাবে সোনারিকা জানান, ঘটনার সময় তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা বোঝার মতো বয়স বা উপলব্ধি কোনোটিই ছিল না।
দীর্ঘদিন চেপে রাখা সেই অভিজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে শৈশবের এক কঠিন স্মৃতির কথা সামনে আনলেন অভিনেত্রী।