অনুমতি ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠস্বরের অপব্যবহার বন্ধে আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডে। তাঁর নাম, ছবি, ভিডিও এবং এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্টের অননুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহার ও প্রচার বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছেন বম্বে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিচারপতি মাধব জামদার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা আপত্তিকর ও বিতর্কিত কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
সংবাদমাধ্যম লাইভ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের ব্যক্তিত্বের অধিকার (পার্সোনালিটি রাইটস) সুরক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনন্যা। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়াই তাঁর ছবি, ভিডিওর অংশ এবং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভুয়া ছবি ব্যবহার করছে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট পর্যালোচনা করে আদালত প্রাথমিকভাবে মনে করেছেন, এসব কর্মকাণ্ডে অভিনেত্রীর অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিচারপতি জামদার পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ধরনের অপব্যবহার অনন্যার গোপনীয়তা, প্রচার, নৈতিক অধিকার এবং মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকারের পরিপন্থী।
এদিকে একই দিন টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘অনুপমা’র অভিনেত্রী রূপালি গঙ্গোপাধ্যায়ও একই ধরনের আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন। তাঁর ছবি ও ভিডিওর অননুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং এআই-নির্মিত ডিপফেক কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সেগুলো সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগের দিন দিল্লি হাইকোর্ট অভিনেত্রী কৃতি স্যাননকেও তাঁর নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বরের অননুমোদিত ব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেন। এআই দিয়ে তৈরি ভয়েস মডেল, চ্যাটবট ও আপত্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধেও নির্দেশনা দেন আদালত। তবে সংবাদ পরিবেশন, পর্যালোচনা, সমালোচনা, ব্যঙ্গ ও প্যারোডির মতো বিষয় এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
এর আগে অনিল কাপুর, অমিতাভ বচ্চন, জ্যাকি শ্রফ, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অল্লু অর্জুনের মতো তারকারাও নিজেদের নাম, কণ্ঠস্বর ও মুখাবয়বের অননুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।