ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে বাংলাদেশি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কুশলায়ন বুড্ডিস্ট মেডিটেশন সেন্টারে বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুড্ডিস্ট মেডিটেশন সেন্টারের দায়ক-দায়িকাদের আয়োজনে পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘদান, কঠিন চীবর দান, কল্পতরু দান ও পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। দুপুরে শুরু হয় ধর্মীয় দেশনা।
কঠিন চীবর দানসভায় সভাপতিত্ব করেন ফ্রান্স বুদ্ধগয়া প্রজ্ঞাবিহারের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথের। প্রধান ধর্মালোচক ছিলেন স্পেন সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত কুশলায়ন থের। বিশেষ ধর্মালোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লন্ডন বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সুমনাশ্রী থের।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফ্রান্স বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট মেডিটেশন সেন্টারের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রিয়রক্ষিত থের। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কুশলায়ন বুড্ডিস্ট মেডিটেশন সেন্টারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত জ্যোতিসার ভিক্ষু। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ভদন্ত সংঘপাল থের, ভদন্ত আনন্দরত্ন থের, ভদন্ত অপ্রমাদ ভিক্ষু ও ভিক্ষুণী সংঘামিত্রা থেরি।
অনুপম বড়ুয়া অনু ও প্রীতি কণা বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন প্রমোতোষ বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন সুমেষ বড়ুয়া এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রকি বড়ুয়া।
বক্তারা বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে চীবর দান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার। তাঁদের বিশ্বাস, এ দানের মাধ্যমে জন্ম-জন্মান্তরে পুণ্য অর্জিত হয়। প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে বছরে একবার এ আয়োজন করা হয়। এদিন ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ গৃহীরা ভিক্ষু সংঘকে চীবর দান করেন। ভিক্ষু সংঘও বিনয়বিধির নিয়ম অনুসরণ করে পরিধেয় বস্ত্র হিসেবে চীবর গ্রহণ ও ব্যবহার করেন।
বক্তারা আরও বলেন, কঠিন চীবর দানের বহুমাত্রিক পুণ্যফলের কথা বিবেচনায় রেখে প্রত্যেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জীবনে অন্তত একবার হলেও এ দানে অংশ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন।
অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা অংশ নেন।
শেষ পর্বে শর্মী মুৎসুদ্দি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে বাংলাদেশ থেকে আগত বেতার ও টেলিভিশনশিল্পী শরণ বড়ুয়া সংগীত পরিবেশন করেন।