যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে ডেমোক্রেটিক পার্টিকে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ডেমোক্র্যাটরা অভিশংসনের পথে হাঁটলে শেষ পর্যন্ত নিজেদের দলকেই বিপর্যয়ের মুখে ফেলবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি, বিশেষ করে ইরানে সামরিক অভিযান এবং অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। এসব ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা অভিশংসনের উদ্যোগ নিতে পারেন—এমন সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্রেটিক পার্টির বড় ধরনের সাফল্যের খবর সামনে এসেছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। এ সময় হোয়াইট হাউসের লনে নির্মাণাধীন নতুন বলরুম প্রকল্প ঘুরিয়ে দেখান তিনি। প্রায় ২০ মিনিট ধরে প্রকল্পটি নিয়ে কথা বললেও নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, অভিশংসন নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই। বরং আমার মনে হয়, তারা যদি কোনো কারণ ছাড়াই অভিশংসনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে সেটি ডেমোক্রেটিক পার্টিকেই ধ্বংস করে দেবে। কিসের জন্য? একটি সফল দেশ গড়ার জন্য? আমাদের দেশ এখন তার ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সফল।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে নিজের জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গ টানেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি যদি ব্যালটে থাকতাম, তাহলে জয়ী হতাম। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় সমর্থকদের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। কিন্তু সেই সমর্থন ও ভালোবাসা আমরা প্রার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে পারিনি।’
তবে নির্বাচনের আগের দিন নয়, ফল প্রকাশের পর মঙ্গলবার গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানান ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন। তারা ভালো করেছে। ১১ বছর ধরে তারা এই জয়ের অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে তারা তা পেয়েছে।’
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পর কংগ্রেসে দলটির অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরান অভিযান ও অভিবাসননীতি নিয়ে দুই দলের বিরোধ আগামী দিনগুলোতে আরও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।