পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে রফতানিকারক দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আম রফতানি সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী মান নিশ্চিত করা এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা বিলবৈঠা এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে আদা, গ্রীষ্মকালীন কাঁচামরিচ ও টমেটো চাষ এবং আম-লিচুসহ বিভিন্ন ফলবাগান পরিদর্শন শেষে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, হোসেনডাঙ্গা ও বাবুডাইং এলাকায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ, বারোমাসি কার্টিমন আম উৎপাদন এবং আমবাগানে সাথি ফসল হিসেবে বস্তায় আদা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পাশাপাশি আঙুর, কমলা ও ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ফল চাষেও কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমকে বহুমুখী কৃষিপণ্য হিসেবে গড়ে তুলে রফতানি বাড়ানো সম্ভব হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ জন্য আমের গুণগত মান বজায় রাখা, যথাযথ সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আমবাগানে বিকল্প ফসল উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
তিনি জানান, আম উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ সম্প্রসারণ এবং কাঁচামরিচের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে রফতানিকারক দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের আম জাপান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে পাঠানোর বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও আম রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হলে আমের নির্ধারিত গুণগত মান ও প্রক্রিয়াজাতকরণের শর্ত পূরণ করতে হবে।
আম জীবাণুমুক্ত করতে বিশেষায়িত যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আমের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী ও বড় আকারের কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। সার বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কৃষক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ডিলার অনিয়মে জড়িত থাকলে তাঁর ডিলারশিপ বাতিল করা হবে। এ ছাড়া কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি ঢাকার মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান এবং বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।