রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন ও তদারকির লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৫-এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) মোহাম্মদপুরের রিং রোডের সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা হয়।
ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর আওতায় ২৬ থেকে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত মোট ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ। সভাপতিত্ব করেন অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
সভায় এলাকার স্কুল-কলেজ, মসজিদ, হাসপাতাল, এনজিও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুধীজন, ইমাম-খতিব, সাংবাদিক এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশ
সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে শুধু সরকারি সংস্থার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ কাজে নাগরিকদেরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে।
সভায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে যুক্ত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। পাশাপাশি অঞ্চল-৫-এর আওতাধীন সব সরকারি, বেসরকারি ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে আগামী সাত দিনের মধ্যে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রতিবেদন ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট জোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
১২ সদস্যের সমন্বয় কমিটি
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে অঞ্চল-৫-এর জন্য ১২ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটিতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও রয়েছেন।
এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তর, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ডিএমপির তেজগাঁও থানা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ঢাকা ওয়াসার প্রতিনিধিরা কমিটিতে রয়েছেন। ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারাও এতে অন্তর্ভুক্ত।
আয়োজকদের মতে, বিভিন্ন সংস্থাকে একই কমিটির আওতায় আনার উদ্দেশ্য হলো দায়িত্বের সমন্বয় করা, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা।
পরিচ্ছন্নতায় নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান
সভায় ইমাম-খতিব, শিক্ষক, চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। মসজিদের খুতবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ এবং পাড়া-মহল্লার সংগঠনের মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতন করা গেলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকেরা।