
সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ঢাকা মহানগরে ১৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দায়ের করা হয়েছে ১১টি মামলা। এসব প্রতিষ্ঠানে খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ না থাকা, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি এবং রেফ্রিজারেটরে লেবেল ছাড়া মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।
এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স না থাকা এবং পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণ দেখাতে না পারার মতো অসংগতিও শনাক্ত করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় আরও ১৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে মোট ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৭টি মামলা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে রান্নাঘরে তেলাপোকার উপস্থিতি, পোড়া তেল ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ও অনুমোদনহীন উপকরণ ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা এবং নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের মতো অপরাধ পাওয়া যায়।
অভিযানের পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে তদারকিও জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। অক্টোবর মাসে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১ হাজার ১২৭টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবেশন ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এ ছাড়া রপ্তানিযোগ্য চারটি পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে প্রচার কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি, রিলস ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দেশের সব মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু একটি সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।