পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসাশিক্ষার প্রসারে অধ্যাপক এম এ হাদী স্মরণীয় হয়ে থাকবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিবিধ

বাংলাদেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসাশিক্ষার প্রসারে সাবেক উপাচার্য প্রয়াত অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তাঁরা

2026-11-03T10:41:49+00:00
2026-11-03T10:41:49+00:00
  মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
বিবিধ
পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসাশিক্ষার প্রসারে অধ্যাপক এম এ হাদী স্মরণীয় হয়ে থাকবেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪১ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসাশিক্ষার প্রসারে সাবেক উপাচার্য প্রয়াত অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ছিলেন একজন গুণী শিক্ষক, স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ প্রশাসক। চিকিৎসাশিক্ষার উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী চেতনা ধারণ ও ছড়িয়ে দিতেও তিনি অবদান রেখেছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেন, অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী সময়ের প্রতি অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। তিনি ভোর পাঁচটায় বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের অস্ত্রোপচার করতেন এবং সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হতেন। তিনি ছিলেন দূরদর্শী ও চিন্তাশীল মানুষ।

মন্ত্রী বলেন, দেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ও আন্ডারগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসাশিক্ষাসহ স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে অধ্যাপক এম এ হাদীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নার্সিং সেবা ও মেডিক্যাল টেকনোলজির উন্নয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আন্তরিক সহযোগিতা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএমইউ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ অনেক আশা নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিএমইউকে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রেফার্ড রোগীরা ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা পান এবং কোনো রেফার্ড রোগীকে ফেরত যেতে না হয়। শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করতে আগ্রহী চিকিৎসক ও কর্মীদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এমপি বলেন, অধ্যাপক এম এ হাদী মেধা ও গুণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা বা বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার বিকাশে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, বিএমইউতে বিগত ১৭ বছরে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, দেশের চিকিৎসাসেবা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে অধ্যাপক এম এ হাদীর গভীর জ্ঞান ছিল। এ খাত নিয়ে তাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ ছিল।

বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, অধ্যাপক এম এ হাদী ছিলেন একজন শিক্ষাগুরু ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ। গুণী শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তাতে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. এস এম ইউনুস আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বিএমএ ও ড্যাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক, বিএনপির পরিবার কল্যাণবিষয়ক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু, বিএমইউর উপ-উপাচার্য ও বিএনপির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু, চিফ এস্টেট অফিসার ডা. মো. এহতেশামুল হক তুহিন এবং ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সেলিম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সালাম, ডা. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. সাইফ উদ্দিন নিসার আহমেদ, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেশিয়াল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল আজম রঞ্জু এবং পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ড্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


Loading...
Loading...

বিবিধ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: