প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে বিরল প্রজাতির ‘ব্যারেলআই’ মাছের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মাছটির মাথা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। ফলে বাইরে থেকেই দেখা যায় মাথার ভেতরে থাকা সবুজ চোখ। দীর্ঘদিনের গবেষণায় এই প্রজাতির দেখা খুব কম পাওয়ায় নতুন করে মাছটির সন্ধান বিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
মন্টেরে বে অ্যাকুরিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এমবিএআরআই) গবেষকেরা সম্প্রতি সমুদ্র অভিযানে গিয়ে মন্টেরে ক্যানিয়ন থেকে প্রায় ৫৫ মাইল দূরে মাছটির দেখা পান। ‘ডেভিড প্যাকার্ড’ নামের একটি গবেষণা জাহাজে অভিযান চালানোর সময় গভীর সমুদ্রের প্রাণী পর্যবেক্ষণে তাঁরা ব্যবহার করেন ‘ডক রিকেটস’ নামের দূরনিয়ন্ত্রিত যান।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৯৭০ ফুট গভীরে মাছটি দেখতে পান গবেষকেরা। প্রায় ২০ মিনিট ধরে সেটির ভিডিও ধারণ করা হয়। ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, মাছটি পানির নিচে ভেসে বেড়াচ্ছে। তার স্বচ্ছ মাথার ভেতর দিয়ে সবুজ চোখও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাক্রোপিন্না মাইক্রোস্টোমা। সাধারণত ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় এই মাছ। সমুদ্রের প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ ফুট গভীরের গোধূলি ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকায় এদের বসবাস। গভীর সমুদ্রে থাকার কারণে প্রজাতিটি মানুষের চোখে খুব কমই পড়ে। এমবিএআরআইয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, গত ৪০ বছরের সমুদ্র গবেষণায় তাঁরা মাত্র ১০ বার এই মাছের দেখা পেয়েছেন।
মাছটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য এর স্বচ্ছ মাথা। এমবিএআরআইয়ের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিভেন হ্যাডক একে ‘অবিশ্বাস্য সৃষ্টি’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, মাছটিকে দেখে মনে হয় যেন কোনো কল্পনাপ্রবণ শিশু এটি তৈরি করেছে।
হ্যাডক জানান, অতীতে মাছ ধরার জালে আটকে পড়া নমুনার ভিত্তিতে এ প্রজাতির যেসব ছবি আঁকা হয়েছিল, সেগুলোতে স্বচ্ছ মাথার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠত না। এ কারণে ছবিতে মাছটির প্রকৃত চেহারা বোঝা কঠিন ছিল। জীবন্ত অবস্থায় স্বচ্ছ মাথাসহ মাছটিকে ক্যামেরায় ধারণ করতে পারা গবেষকদের জন্য তাই বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।