বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষকদের মতে, ২৯ অক্টোবরের এই ঘটনা ক্রিপ্টো খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা হতে পারে। হামলার পর প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ বা আটকে দিতে পেরেছে বাইন্যান্স ও তাদের সহযোগীরা। বাকি অর্থ উদ্ধারে চলছে তৎপরতা।
বাইন্যান্সের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে একজন ডেভঅপস (DevOps) প্রকৌশলীর ল্যাপটপের নিরাপত্তা ভেঙে হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের একটি সার্ভিস কনটেইনারে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে থাকতে পারে। এরপর সেখান থেকে অনুমোদনহীন অর্থ উত্তোলনের লেনদেন চালানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ওয়ালেটের প্রাইভেট কি ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
ব্লকচেইন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের (TRM Labs) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ১০টি ব্লকচেইনে থাকা বাইন্যান্সের ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬৩৬ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ সরিয়ে নেয়। এর বড় অংশ মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে স্থানান্তর করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত হ্যাকার গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেইটার’-এর (TraderTraitor) সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে। অনলাইন ও ব্লকচেইনভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে তাদের উচ্চমাত্রার আত্মবিশ্বাস রয়েছে বলে দাবি করেছে টিআরএম। তবে বাইন্যান্স এখনো হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি।
হামলার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুরু করে বাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ব্লকচেইন অংশীদারদের সহায়তায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ অন-চেইনে আটকে দেওয়া হয়েছে। টিআরএমের বিশ্লেষণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জব্দ করা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৭০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি অর্থের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারে কাজ চলছে।
নিরাপত্তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বাইন্যান্স সাময়িকভাবে আমানত ও অর্থ উত্তোলন কার্যক্রম স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক ঠিকানার অনুমোদন বাতিল এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে তারা। বাইন্যান্স জানিয়েছে, গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে এবং হ্যাকিংয়ের কারণে হওয়া সব ক্ষতি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল ও সিকিউর অ্যাসেট ফান্ড ফর ইউজারস (সাফু) থেকে পূরণ করা হবে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত কারিগরি প্রতিবেদনও প্রকাশের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই হামলার ব্যাপকতা ক্রিপ্টো বাজারে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলার সঙ্গেও উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের যোগসূত্র পাওয়া যায়। টিআরএমের মতে, বাইন্যান্সের এবারের ঘটনা সেই চুরির পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। হামলার পূর্ণ কৌশল, চুরি হওয়া সম্পদের চূড়ান্ত পরিমাণ এবং অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।