ইরানে পারমাণবিক হামলার পথে ট্রাম্প?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানে পারমাণবিক হামলার বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন—এমন দাবি করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার

2026-11-02T15:38:57+00:00
2026-11-02T15:38:57+00:00
  সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬,
১৮ কার্তিক ১৪৩৩
 
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানে পারমাণবিক হামলার পথে ট্রাম্প?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ইরানে পারমাণবিক হামলার বিষয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন—এমন দাবি করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন। তার অভিযোগ, ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অনুমতি দিতে ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন কার্লসন।

সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মধ্য ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি স্থানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। কার্লসনের দাবি, ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই স্থানে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কার্যক্রম শুরু করেছে।

ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসন যুক্তরাষ্ট্রের একজন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার। ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ‘টাকার কার্লসন টুনাইট’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের স্বাধীন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত মন্তব্য করেন।

কার্লসনের ভাষ্য অনুযায়ী, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো প্রায় ৩০০ ফুট পুরু শক্ত গ্রানাইট পাথরের নিচে অবস্থিত। ফলে প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে সেখানে আঘাত করা কঠিন। তার দাবি, ওই স্থাপনায় সামরিক হামলার কার্যকর বিকল্প হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

পোস্টে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির বক্তব্য উদ্ধৃত করে কার্লসন বলেন, ‘বিবি (নেতানিয়াহু) এ বিষয়ে প্রতিদিন ট্রাম্পকে ফোন করেন।’

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেছেন কার্লসন। তার দাবি, ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর পার্লামেন্ট নেসেটে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেতানিয়াহুর। তা না হলে ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি তদন্ত ও কারাদণ্ডের ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন তিনি।

কার্লসনের অভিযোগ, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। এ তালিকায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।

এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফও নেতানিয়াহুর অবস্থানের সঙ্গে একমত বলে দাবি করেন কার্লসন।

তার আরও দাবি, কাতারের রাজধানী দোহায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে শান্তিচুক্তির খসড়া তৈরি হচ্ছিল, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তার বিরোধিতা করেছিলেন।

তবে কার্লসনের এসব বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ তিনি পোস্টে তুলে ধরেননি। ইরানে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি চলছে—এমন কোনো তথ্যও সংশ্লিষ্ট মার্কিন বা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত কার্লসনের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: