ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পথ উন্মুক্ত করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ সম্পন্ন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত এই টেলিফোন সংলাপে দুই নেতা হামলার সময়সূচি ও ইরানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রশাসনিক সূত্র ও ফোনালাপের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, নতুন করে মার্কিন বোমারু বিমান ও সামরিক অভিযান পরিচালনার সার্বিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন ট্রাম্প।
‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ ধ্বংসের হুমকি: ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, ইরানে এখনও অন্তত এক থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করা বাকি রয়েছে, যা গুঁড়িয়ে দিতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তিনি বিশেষভাবে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ (Pickaxe Mountain)-এর কথা উল্লেখ করেন, যেখানে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা অনুযায়ী ইরানের গোপনীয় পারমাণবিক উপাদান সংরক্ষিত রয়েছে।
তেহরান নিয়ে ট্রাম্পের দ্বিধাবিভক্ত মন্তব্য: একদিকে ইরানে নতুন হামলার মহড়া চলছে, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে একই নিঃশ্বাসে ইরানকে ‘খুব একটা নির্ভরযোগ্য দেশ নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দোহায় কাতারি মধ্যস্থতায় গোপন বৈঠক: যুদ্ধের চূড়ান্ত অবসান ও সমাধান খুঁজতে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন ইরানের প্রতিনিধিরা। তার আগের দিন তেহরানে টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাতার ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলে, যা সরাসরি ওয়াশিংটনের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছিল।
হরমুজ প্রণালি ও ভ্যান্সের চিঠি: সেপ্টেম্বর থেকে ইরান প্রস্তাব দিয়ে আসছে যে, মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ সম্পত্তি ফেরত দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব নৌপথের স্বীকৃতি মিললে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ট্রাম্প এতদিন এই প্রস্তাব নাকচ করলেও, সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কূটনৈতিক সুর বদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিষয়টি তেহরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও এখনও চিঠির আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেয়নি ইরান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মাঝপথে জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক দ্রুত ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে উভয় দেশের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও নতুন করে চরম উত্তেজনায় রূপ নিচ্ছে।