ইরানের দেওয়া বেশ কিছু কড়া শর্ত ওয়াশিংটন মেনে নিলে আগামী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের মধ্যেই বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তেহরানের এই নতুন দুই দিনের রূপরেখার কথা প্রকাশ করেন।
সাত দিন থেকে দুই দিনের পরিকল্পনা: পূর্বে ইরান হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে সাত দিনের একটি বাস্তবায়ন রূপরেখা দিয়েছিল। তবে দোহার মধ্যস্থতাকারীদের সফরের পর কাতারের পরামর্শে তা কমিয়ে প্রথমে পাঁচ দিন এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত আলোচনার পর মাত্র দুই দিনে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
দুই দিনের রোডম্যাপ: প্রস্তাবিত পরিকল্পনার প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের দাবি অনুযায়ী প্রাথমিক কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষপ গ্রহণ করতে হবে। মার্কিন প্রশাসন সেগুলো মেনে নিলে দ্বিতীয় দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
তেহরানের প্রধান প্রধান শর্তসমূহ: আরাগচি জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই এই সমঝোতার প্রধান শর্ত। যার মধ্যে রয়েছে—জুলাইয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জুন মাসের তেল রপ্তানির ছাড় পুনর্বহাল করা এবং কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের ইরানি অর্থ ছাড় করা।
সীমান্তিক স্বীকৃতি ও আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি: এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো, ইরান ও ওমানের যৌথ আলোচনায় নির্ধারিত নতুন নৌপথকে একমাত্র অফিশিয়াল রুট হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে ইরানের এই শর্তযুক্ত দুই দিনের প্রস্তাবে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সম্মতি জানিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।