দেশের জ্বালানি সংকটের জন্য বিএনপি সরকার দায়ী নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের প্রভাবে এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এ অবস্থায় জ্বালানি সংকট নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (ঢাকা) আয়োজিত পুনর্মিলনী ও বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যে অঞ্চল দিয়ে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল আসার কথা, সেই অঞ্চল এখন যুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে সেখান থেকে জ্বালানি আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারকে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কাজ করতে হচ্ছে।
রিজভী বলেন, সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সেসব উৎস থেকে জ্বালানি আসাও শুরু হয়েছে। ঢাকায় গ্যাস সরবরাহ অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যান্য জ্বালানির পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে সহনীয় পর্যায়ে আসছে বলে জানান বিএনপির এই নেতা।
তাঁর মতে, সংকট মোকাবিলায় সরকার যখন বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন এ বিষয়কে কেন্দ্র করে লংমার্চ করার প্রয়োজন নেই।
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিএনপি সরকার ইতিবাচক রাজনীতি করছে এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ জনগণের কাছে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক শূন্যতা ও ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি সামনে আনতেই তারা লংমার্চের মতো কর্মসূচি নিয়েছে।
তিনি বলেন, এ কর্মসূচি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ ও গতিশীল নেতৃত্বের ভূমিকা আড়াল করতেই বিরোধীরা এসব কর্মসূচি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, বিএনপি সরকার সে পথে হাঁটছে কি না, তা সাংবাদিকেরাই জানেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে বাংলাদেশকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাপান সফর করেছেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক লেনদেন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর আগে চীন সফরেও দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক লেনদেন বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভীর অভিযোগ, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় ও মন্ত্রণালয়ের কাজে সক্রিয় মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সরকারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।
সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের দমনে পুলিশ যথাযথ ভূমিকা পালন করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনকে বিভিন্ন ধরনের কিশোর অপরাধ ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে আগের পরিস্থিতি ভালো ছিল কি না, তা বিরোধীদের বিবেচনা করতে বলেন রিজভী। তিনি বলেন, অপপ্রচার চালিয়ে সরকারের গতিশীল ভূমিকা ও তৎপরতা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
এদিকে শনিবারই ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন।