পছন্দের স্কুলে বদলি পেতে আর তদবির নয়, আসছে লটারি পদ্ধতি

ভোরের ডাক ডেস্ক

শিক্ষা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তদবির, রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ কমাতে নতুন পদ্ধতির কথা ভাবছে সরকার। একই কর্মস্থলে

2026-10-30T16:35:46+00:00
2026-10-30T16:35:46+00:00
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষা
পছন্দের স্কুলে বদলি পেতে আর তদবির নয়, আসছে লটারি পদ্ধতি
ভোরের ডাক ডেস্ক
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তদবির, রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ কমাতে নতুন পদ্ধতির কথা ভাবছে সরকার। একই কর্মস্থলে বদলির জন্য একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলে প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমে একজনকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বদলি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে নতুন পদ্ধতি। সে লক্ষ্যে এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বদলি নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

লটারির মাধ্যমে শিক্ষক বদলির চিন্তার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের দেওয়া হয়েছে। একই স্থানে একাধিক প্রার্থী থাকলে প্রয়োজনে লটারি করা হবে। বদলির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখা হয়নি। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বদলিতে তদবিরের প্রবণতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আত্মীয়স্বজনের পরিচয় ব্যবহার করেও অনেকে বদলির জন্য তদবির করেন। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বদলির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের নেই। ঢাকায় বদলির ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ থাকলেও নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গিয়ে কাউকে সুবিধা দেওয়া হবে না।

বর্তমান বদলি নীতিমালায় চাকরির মেয়াদ, বিদ্যালয়ের শূন্য পদ, শিক্ষক সংকট, জ্যেষ্ঠতা ও নির্ধারিত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু একই স্থানে একাধিক যোগ্য শিক্ষক বদলির আবেদন করলে লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্পষ্ট বিধান নেই।

সরকারের নতুন চিন্তা অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হতে পারে। এতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, তদবির কিংবা প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি হওয়ার সুযোগ কমবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

তবে নতুন পদ্ধতি চালু করতে হলে নীতিমালায় সংশোধন আনতে হবে। কোন পরিস্থিতিতে লটারি হবে, কারা এতে অংশ নিতে পারবেন এবং বিদ্যমান শর্তগুলোর সঙ্গে লটারির সমন্বয় কীভাবে হবে—এসব বিষয়ও নির্ধারণ করতে হবে।

শিক্ষক সংকটের মধ্যেই বদলি নিয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার। মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ হাজার সহকারী শিক্ষক প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের পদেও প্রায় ৩৮ হাজার জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছে, একসঙ্গে এত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়।

শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী এ সংকট নিরসনে বিকল্প উপায় খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে বদলির আগে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষকসংখ্যা ও প্রয়োজন বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। কোনো বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকলে সেখান থেকে শিক্ষক সরিয়ে নিলে পাঠদান ব্যাহত হতে পারে। তাই বদলির ক্ষেত্রে শূন্য পদ, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমে চলতি বছরই পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২১ জুন নতুন করে বদলি ও পদায়ন পদ্ধতি চালু করে। পরে ১৬ জুলাই সংশোধিত নীতিমালায় কমিটির গঠন ও বদলির শর্তে পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছিল ‘সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা, ২০২৬’।

বর্তমানে উপজেলা বা থানা পর্যায়ের বদলি কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট ইউএনও। জেলা পর্যায়ের কমিটির নেতৃত্বে থাকেন জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ের কমিটির সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার। স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতি মনোনীত দুজন বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিধানও রয়েছে।

একই উপজেলা, জেলা বা বিভাগের মধ্যে বদলির আবেদন সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কমিটিতে নিষ্পত্তি হয়। আন্তঃবিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ের বদলির দায়িত্ব পালন করে জাতীয় কমিটি। এসব কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করতে হয়।

সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সহকারী শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ না হলে সাধারণভাবে বদলির আবেদন বিবেচনার সুযোগ নেই। একবার বদলি হওয়ার পর পরবর্তী তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আবার বদলির আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক বদলির আবেদন করলে জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে জ্যেষ্ঠতা থাকলেই বদলি নিশ্চিত নয়; অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হয়।

যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেখান থেকে বদলির ক্ষেত্রেও রয়েছে বিধিনিষেধ। যে বিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদ শূন্য নেই, সেখানে সাধারণভাবে শিক্ষক বদলি করা যায় না। পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক কর্মরত এমন বিদ্যালয় থেকে বদলির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি এমন বিদ্যালয় থেকেও বদলির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নারী শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানা, স্বামীর কর্মস্থল কিংবা স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ অগ্রাধিকারও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলি নিশ্চিত করে না। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শূন্য পদ ও শিক্ষকসংকটসহ অন্যান্য শর্ত যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ সমকালকে বলেন, অনলাইনে একাধিক আবেদন জমা পড়লে লটারি করা যেতে পারে। তবে সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষকদের জন্য এর বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত।

সংশ্লিষ্টদের মতে, লটারি চালু হলে একই স্থানে বদলির জন্য একাধিক যোগ্য প্রার্থীর মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে। এতে ব্যক্তিগত তদবিরের সুযোগও কমতে পারে। তবে শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়ের স্বার্থ, শূন্য পদ, চাকরির মেয়াদ ও জ্যেষ্ঠতার মতো শর্ত অগ্রাহ্য করে লটারি করা হলে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তাই শুধু লটারির ব্যবস্থা চালু করাই যথেষ্ট নয়; কোন আবেদন কেন অনুমোদিত বা বাতিল হলো, তার যুক্তি প্রকাশ এবং বদলি কমিটিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা।


Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: