মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষক নিয়োগ-বাণিজ্য ও এমপিওভুক্তিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত সংবাদকে ‘অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার পাঠানো এক প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যামূলক বার্তায় প্রকাশিত সংবাদটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে মাউশি।
প্রতিবাদ বার্তায় মাউশি জানায়, একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বক্তব্য অধিদপ্তরের সংরক্ষিত নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংস্থাটির দাবি, নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অনুমান ও খণ্ডিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোকে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এতে সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
মাউশি জানায়, নরসিংদীর মাধবদী সতীশ ইনস্টিটিউট, নওগাঁর মিসিরা শহীদ জিয়া আদর্শ কারিগরি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কুমিল্লার মুরাদনগরের ছইনউদ্দিন সরকার উচ্চবিদ্যালয়, বগুড়ার চাকলমা উচ্চবিদ্যালয় এবং কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির বিষয় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন, এমপিও কমিটির সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক বিধিমালা অনুসরণ করে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের দাবি, এসব ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের কোনো সুযোগ ছিল না। প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগের সমর্থনে নির্ভরযোগ্য ও যাচাইযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
বিএড ডিগ্রিবিহীন ১২১ জন শিক্ষকের এমপিওভুক্তি এবং জাল সনদের কারণে স্থগিত বেতন-ভাতা পুনরায় চালুর বিষয়েও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে মাউশি।
সংস্থাটি জানায়, এসব ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা অধিদপ্তরের প্রশাসনিক দায়িত্ব। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত সুবিধা বা কমিশন গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি মাউশির।
প্রদর্শকদের নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত থাকার বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে অধিদপ্তর। মাউশির ভাষ্য, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত না থাকায় ফল প্রকাশ করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের এককভাবে হস্তক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
মাউশি আরও জানায়, কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া ঢালাও অভিযোগ তুলে কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে মনে করে সংস্থাটি।
প্রতিবাদ বার্তায় মাউশি কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত সংবাদকে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।