
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা গবেষণার মাধ্যমে যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, তা দেশের স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে। গবেষণালব্ধ জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের জন্য দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে গিয়ে তাঁদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান কাজে লাগাচ্ছেন। সরকার চায়, শিক্ষার্থীরা দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে গবেষণার ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগ করবেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও গবেষণার ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে আগে থেকেই ভাবতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জনবহুল দেশ। তাই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল উৎপাদন ও শিল্প খাতে কাজে লাগানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া দেশের ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে তৃতীয় ভাষা ইনস্টিটিউট চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শুধু ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না। অবকাঠামোগত উন্নয়ন তখনই সার্থক হবে, যখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবেন।
তিনি মাভাবিপ্রবিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে এক হাজার আসনবিশিষ্ট ছাত্র হল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে এক হাজার আসনবিশিষ্ট ছাত্রী হল এবং একটি স্পোর্টস জোন প্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু শিক্ষার্থী পড়ানো, ডিগ্রি প্রদান কিংবা গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলাও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এসব গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট দেশ ও অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান। একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে গবেষণার ফলাফল বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগে।
মাভাবিপ্রবি ইতিমধ্যে এ ধরনের গবেষণা প্রকল্প গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় সমাজের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষকসমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন মাভাবিপ্রবির রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম পিন্টু এবং টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এ ছাড়া ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।
অনুষ্ঠানে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২৪টি এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের জন্য ৩০ জন শিক্ষক ও ১৯ জন শিক্ষার্থীকে ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পাঁচজনকে ‘ইউনিভার্সিটি কমিউনিটি চিলড্রেনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয়।
মাভাবিপ্রবি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জন, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, গবেষণালব্ধ জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।