বাড়ির উঠানে খেলছিল ছোট্ট মাফিজা আক্তার। বয়স মাত্র ১৪ মাস। খেলনা নিয়ে আপনমনে খেলার ফাঁকে হামাগুড়ি দিতে দিতে কখন যে বাড়ির সামনের ডোবার পানির দিকে চলে গিয়েছিল, তা বুঝতেই পারেননি কেউ। মুহূর্তের অসতর্কতায় ডোবার পানিতে তলিয়ে যায় শিশুটি। পরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে। একমাত্র আদরের শিশুকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার লক্ষ্মণখলা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মাফিজা আক্তার ওই গ্রামের মারুফ মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে বাড়ির উঠানে খেলনা নিয়ে খেলছিল মাফিজা। একপর্যায়ে হামাগুড়ি দিতে দিতে সে বাড়ির সামনের ডোবার কাছে চলে যায় এবং অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় লোকজন ডোবা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পরে দ্রুত শিশুটিকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মাফিজাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের এই ঘোষণা মুহূর্তেই পরিবারের স্বজনদের কাছে আনন্দের পৃথিবীকে শোকে স্তব্ধ করে দেয়।
ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাত্র ১৪ মাস বয়সেই মাফিজার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে লক্ষ্মণখলা গ্রামে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। যে বয়সে শিশুর হাসি-খেলায় ঘর মাতিয়ে রাখার কথা, সেই বয়সেই তার নিথর দেহ ফিরে আসা পরিবার ও স্বজনদের জন্য এক অপূরণীয় বেদনার ঘটনা হয়ে রইল।