মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে যথাযোগ্য শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। একই দিনে উপজেলার শমশেরনগরের ঘোষপুর এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল রঞ্জন পালের মরদেহে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার সকালে কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের দলই সীমান্তে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ আলী, দলই বিওপির ইনচার্জ সুবেদার আক্কাস আলী, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর কমলগঞ্জ সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন সিপাহি হামিদুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করা হয়।
১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হামিদুর রহমান। তাঁর বাবা আক্কাস আলী মণ্ডল এবং মা কায়মুন্নেসা। মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহীদ হওয়া হামিদুর রহমান সাত বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
অন্যদিকে, কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নের ঘোষপুর এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল রঞ্জন পাল (৮৫) বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
সুশীল রঞ্জন পাল অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক ছিলেন। তিনি শমশেরনগর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তাঁর ছেলে শিমুল কান্তি পাল রাজনগর উপজেলার শান্তকুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ঘোষপুরে তাঁর মরদেহে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে জাতীয় পতাকায় মরদেহ আচ্ছাদিত করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার, শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. আরশাদ আলী, মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম ও নির্মল কুমার দাশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
গার্ড অব অনার শেষে স্থানীয় শ্মশানে সুশীল রঞ্জন পালের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা ও শমশেরনগর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদ, শ্রীকৃষ্ণ যুব সংঘ, সানফ্লাওয়ার সনাতনী যুব সংঘসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।