আসন্ন পবিত্র রমজান সামনে রেখে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং ফল আমদানিতে করব্যবস্থা আরও নমনীয় করার দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকেরা।
তবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও দেশের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রস্তুতি, সরবরাহ পরিস্থিতি ও মূল্য পর্যালোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা।
বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এতে রমজানের বাড়তি চাহিদা মেটাতে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আমদানি বাড়লেও বাজারে দাম সহনীয় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে সরবরাহ, আমদানি ব্যয় ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এ প্রস্তাবের বিষয়ে বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
রমজানে ইফতারের বিভিন্ন ভাজাপোড়া খাবার তৈরি এবং রান্নার কাজে সয়াবিন ও পাম তেলের ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে এ সময় স্বাভাবিক মাসের তুলনায় ভোজ্যতেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
খেজুর আমদানিকারকেরা জানিয়েছেন, উচ্চ শুল্কায়নমূল্য, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার জটিলতার কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। তাঁদের হিসাবে, খেজুর আমদানিতে শুল্ক ও কর মিলিয়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বহন করতে হয়।
আমদানিকারকদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিকল্প পথে পণ্য আনতে হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে জটিলতা অব্যাহত থাকলে রমজানে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খেজুরের জাত, মান ও দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। সব ধরনের খেজুরের জন্য একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করা হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আমদানিকারকেরা খেজুরের প্রকৃত মান ও দামের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাধারণ মানের খেজুরের প্রকৃত মূল্যের তুলনায় বেশি শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করা হলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়ে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে জানান, এ-সংক্রান্ত শুল্ক সুবিধা কার্যকরের জন্য অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে শুল্ক সুবিধার কার্যকর প্রয়োগ ও আমদানিকারকদের উত্থাপিত অন্যান্য সমস্যার সমাধান নিয়ে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
এ সময়ে দেশে মোট ৮ লাখ ২৩ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৭ লাখ ৫ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার টন। এ সময়ে ভোজ্যতেল আমদানির জন্য ৮ লাখ ৫ হাজার টনের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি।
চিনি আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেশি। একই সময়ে চিনি আমদানির জন্য ৮ লাখ ১০ হাজার টনের এলসি খোলা হয়েছে।
রমজানের অন্যতম প্রধান ইফতারি উপকরণ ছোলার আমদানিও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৮২ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১২ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ৭০ হাজার টন। এ সময়ে ছোলা আমদানির জন্য ১ লাখ ৩৮ হাজার টনের এলসি খোলা হয়েছে।
অন্যদিকে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪ হাজার টন বেশি। এ সময়ে মসুর ডাল আমদানির জন্য ১ লাখ ১৪ হাজার টনের এলসি খোলা হয়েছে।
খেজুর আমদানিও বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে ১১ হাজার টন খেজুর আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪ হাজার টন।
আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণ বাড়ায় রমজানের আগে এসব পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে সময়মতো পণ্য খালাস, পরিবহন, বাজারজাতকরণ এবং আমদানি করা পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে ডাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজানে ছোলা ও মসুর ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন। তবে বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ছোট ডাল মিলগুলো সমস্যায় পড়ছে।
বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী নেসার উদ্দিন বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চায় রমজানে ছোলা ও মসুর ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকুক এবং দাম স্থিতিশীল থাকুক। ব্যবসায়ীরাও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশে ছোলার চাহিদা সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। অন্যদিকে ডালের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। বড় ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ ডাল মিলগুলো ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যার মুখে পড়ছে। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
বৈঠকে খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবিও তুলে ধরেন ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি।
বৈঠকে পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে ডিম ও মুরগির উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খামারগুলোতে রোগবালাইয়ের উল্লেখযোগ্য প্রকোপ না থাকায় রমজানে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা কম।
তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খামার পর্যায়ে ডিমের দাম কিছুদিন আগেও প্রতি পিস সাড়ে ১১ টাকা ছিল। বর্তমানে তা কমে ১০ টাকার নিচে নেমেছে, যা উৎপাদন খরচের কাছাকাছি।
পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিদের মতে, রমজানে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে ডিমের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। তবে ঈদের পর মুরগির চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বাজারদরে প্রভাব পড়তে পারে।
তাঁরা আরও জানান, বিদ্যমান আমদানি নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া ডিম ও মাংস আমদানির সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে। বিপরীতে মসুর ডালের দাম কমেছে।
বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে কোনো শুল্ক-কর নেই। তবে চিনি ও ফল আমদানির বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমন্বয় করা গেলে বাজারে দাম সহনীয় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
আমদানিকারকেরা ফল আমদানিতে আরও নমনীয় করব্যবস্থা চালুরও দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, উচ্চ শুল্ক ও আমদানি ব্যয়ের কারণে অনেক ফল সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাজারে তাজা ফলের দাম কিছুটা কমেছে বলেও বৈঠকে উপস্থাপিত পর্যালোচনায় উঠে আসে।
রমজানে সেহরি ও ইফতারের বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের কারণে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, খেজুর, মুরগি ও ডিমের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে চাহিদা দ্বিগুণ বা তারও বেশি হতে পারে।
ইফতারে ছোলা ও খেজুরের ব্যবহার বাড়ে। শরবত, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও বিভিন্ন ইফতারি তৈরির কারণে চিনির চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রমজানের এক মাসে চিনির চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টনে পৌঁছায়।
একইভাবে পেঁয়াজু, বেগুনি ও ডালের বড়াসহ বিভিন্ন ভাজাপোড়া তৈরিতে ভোজ্যতেল ও মসুর ডালের ব্যবহার বাড়ে। বিশেষ করে ভালো মানের ছোট দানার মসুর ডালের চাহিদা বেশি থাকে।
মুরগি ও ডিম ছাড়া এসব পণ্যের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে মূলত আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। কোনো কোনো সময়ে ডিমও আমদানি করতে হয়। তাই রমজানের বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় আগাম আমদানি, পর্যাপ্ত মজুত এবং সময়মতো বাজারে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
বৈঠকে ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আমদানি ও সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানি বাড়ার পাশাপাশি বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। শুধু আমদানি বাড়লেই ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই; সরবরাহব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, এফবিসিসিআই, পুলিশ, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।