ভারতের হায়দরাবাদে স্ত্রীকে ভাড়া বাড়িতে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রেখে নিজের তিন বন্ধুকে দিয়ে বারবার ধর্ষণ করানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ১৮ বছর বয়সী ওই নারী অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে বাইরে তালা লাগিয়ে দিতেন। এরপর তাঁর তিন বন্ধুকে ঘরে ঢুকতে দিতেন, যাঁরা তাঁকে যৌন নির্যাতন করতেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর বাড়িওয়ালা বকেয়া ভাড়া নিতে এসে বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে তালা ভেঙে দিলে ওই নারী বেরিয়ে আসেন। এরপর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
অভিযোগকারী হুমাইরা তামান্নার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশের কক্সবাজারে বসবাস করার সময় মোহাম্মদ ফায়াজ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। ফায়াজ তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত মে মাসে পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে ভারতে নিয়ে যান। ভারতে পৌঁছানোর তিন থেকে চার দিন পর হায়দরাবাদে তাঁদের বিয়ে হয়।
প্রতিবেদনটিতে ওই নারীকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর নাগরিকত্ব স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ওই নারীর অভিযোগ, বিয়ের প্রায় এক মাস পর ফায়াজ তাঁর তিন বন্ধু আহমেদ মুজিব, নূর কামাল ও জিয়াউর রহমানকে তাঁদের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে আসেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই তিন ব্যক্তিও মিয়ানমারের নাগরিক এবং হায়দরাবাদে বসবাস করতেন।
হুমাইরার দাবি, ফায়াজ বাড়ির বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যেতেন এবং তাঁর বন্ধুদের ঘরে ঢুকতে দিতেন। এ সময় তাঁরা তাঁকে বারবার ধর্ষণ করতেন। তাঁদের মধ্যে দুজন নির্যাতনের ঘটনা কাউকে জানালে তাঁকে হত্যার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভয় এবং কোথায় গিয়ে সাহায্য চাইবেন, তা বুঝতে না পারায় আগে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ওই নারী।
গত ২৩ অক্টোবর বাড়িওয়ালা বকেয়া ভাড়া আদায় করতে এসে বাড়ির বাইরে তালা দেখতে পান। পরে তালা ভেঙে দিলে হুমাইরা বেরিয়ে আসেন। এরপর অন্য এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে তাঁকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত ২৬ অক্টোবর ওই নারীর আত্মীয় মোহাম্মদ রশিদ তাঁকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ফায়াজ ও তাঁর তিন বন্ধুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, বেআইনিভাবে আটকে রাখা এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন) করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সর্বশেষ পাওয়া প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।