খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় সোহেল শেখ নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিতে তাঁর ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুরুতর জখম হয়েছে। প্রথমে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে খোজ নিয়ে জানা যায়, সোহেল শেখের বয়স ৩৬ বছর। তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বলে জানা গেছে। তাঁর বাবার নাম গনি শেখ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতে বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন সোহেল। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুলিতে তাঁর ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সার্জারি ইউনিট-১-এর ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁকে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন।
খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও স্থানীয় বাইনতলা ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল শেখ ওরফে সোহেল পারভেজের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি মামলা রয়েছে।
তবে তাঁকে গুলি করার পেছনে কী কারণ রয়েছে, কারা এ হামলায় জড়িত এবং হামলার সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।