
স্পেনের ওভিয়েদোর কাম্পোয়াম থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয় মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার। স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে পুরস্কার গ্রহণের জন্য ওভিয়েদোতে অবস্থান করেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্পেনের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্সেস লিওনরের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎপর্বেও অংশ নেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
মেসির অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্সেলোনা লিখেছে, ২০২৬ সালের ক্রীড়া প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারের জন্য মেসি পুরোপুরি যোগ্য। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের অবদানও বিশ্ব ফুটবলে তাঁর অবস্থানকে অনন্য করেছে। খেলাধুলার প্রতি অঙ্গীকার ও মানবিক সংহতির মাধ্যমে তিনি নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন বলেও উল্লেখ করেছে কাতালান ক্লাবটি।
বার্সেলোনার বার্তায় উঠে এসেছে মেসির সঙ্গে ক্লাবটির দীর্ঘ ও সাফল্যমণ্ডিত সম্পর্কের কথাও। ক্লাবটির ভাষ্য, মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়জুড়ে ছিল বার্সেলোনা। এই সম্পর্ক শুধু অতীতের অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; ক্লাবের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও তা থেকে যাবে। মেসির সঙ্গে এই বন্ধন তাদের কাছে সব সময় গর্বের বিষয়।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন মেসি। পরে ক্লাবটির মূল দলে টানা ১৭ মৌসুম খেলেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও দলীয় নানা রেকর্ড গড়েন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তবে ২০২১ সালে আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বার্সেলোনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান ঘটে। ক্লাব ছাড়ার সময় সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত মেসির অশ্রুসিক্ত বিদায় ফুটবলপ্রেমীদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
সেই বিদায়ের কয়েক বছর পর মেসির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে বার্সেলোনার প্রকাশ্য অভিনন্দন পুরোনো সম্পর্কটিকে আবারও আলোচনায় এনেছে। একসময় যে ক্লাবের হয়ে তিনি ইউরোপীয় ফুটবলে অসাধারণ এক অধ্যায় রচনা করেছিলেন, সেই ক্লাবই এখন তাঁর নতুন অর্জনকে উদ্যাপন করছে।
মেসিকে এই পুরস্কার দেওয়া নিয়ে স্পেনে আলোচনা ও আপত্তির কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবিতে আবেদন ও পিটিশন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন বিজয়ীদের তালিকায় মেসির নাম বহাল রাখে। সব মিলিয়ে এই সম্মাননা মেসির ফুটবলীয় সাফল্যের বাইরেও তাঁর আন্তর্জাতিক প্রভাব ও দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে।