
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, কয়েকজন বলিউড তারকার বাসভবনের আশপাশে অভিযুক্তদের যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন অভিনেতার বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতীতেও আমির খান, সালমান খান ও রণবীর সিং হুমকি পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
গ্রেপ্তার আট, আরও দুজন আটক
মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের উপকমিশনার রাজ তিলক রৌশন বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া হরিয়ানা থেকে জতিন ও সমীর নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে ট্রানজিট রিমান্ডে এনে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হলে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১০ হতে পারে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থানের কোটা থেকে দুই বন্দুকধারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও চারজনকে। অন্যদিকে, হরিয়ানা থেকে ১৮ বছর বয়সী অঙ্কিত ওরফে রাজেশ খাতককে আটক করা হয়েছে। দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার চারজন হলেন কুণাল সঞ্জয় (২১), সুমিত সুরাহা (১৯), রাধা ভার্মা (২৯) ও বাবিতা রাও (২৪)।
অস্ত্র সংগ্রহ ও সরবরাহে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
তদন্তকারীদের অভিযোগ, কুণাল, সুমিত ও জতিন ‘ডেড ড্রপ’ পদ্ধতিতে অমৃতসর থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ পদ্ধতিতে একজন নির্দিষ্ট স্থানে অস্ত্র রেখে যান এবং পরে অন্য কেউ সেখান থেকে তা সংগ্রহ করেন।
পুলিশের দাবি, অস্ত্রটি দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পর কুণাল সেটি রাধা ও বাবিতার হাতে তুলে দেন। ওই দুই নারী পরে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে অস্ত্রটি বন্দুকধারীদের কাছে পৌঁছে দেন বলে অভিযোগ। এরপর তারা দিল্লিতে ফিরে যান। অস্ত্র সংগ্রহ ও সরবরাহের এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট পাঁচজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নজরদারি ও অর্থ পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অঙ্কিত ওরফে রাজেশ খাতক বন্দুকধারীদের সঙ্গে মুম্বাইয়ে গিয়েছিলেন বলে পুলিশের ধারণা। বিভিন্ন স্থানে গিয়ে নজরদারি চালাতে সহায়তা করার পাশাপাশি অনিল পণ্ডিতের কাছ থেকে অভিযুক্তদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও তিনি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার দাবি, বন্দুকধারীদের কাছে প্রায় দুই লাখ রুপি পাঠানো হয়েছিল। নজরদারির কাজ শেষ হওয়ার পর অঙ্কিত হরিয়ানায় ফিরে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, সমীরের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত রেহান আনসারি ও অনিল পণ্ডিতের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সমীরের মাধ্যমেই রেহানকে গুলি চালানোর পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল। তবে অভিযুক্তদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং হামলার পেছনে সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত এখনো চলছে।
আদালতে হাজির অভিযুক্তরা
কোটা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুম্বাইয়ের আদালতে হাজির করা হয়েছে। আর দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার চারজনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, টাইগার শ্রফের বাড়িকে ঘিরে হামলার পরিকল্পনা, অস্ত্র সংগ্রহ, অর্থের লেনদেন এবং অন্য তারকাদের বাসভবনে অভিযুক্তদের যাতায়াতের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে আমির খান, সালমান খান ও রণবীর সিংয়ের বাড়িতে যাতায়াতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদেরও হামলার লক্ষ্য করা হয়েছিল—এমন কোনো সিদ্ধান্তে এখনো পৌঁছায়নি পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস