
উপজেলার পাঁচগাছি, শানেরহাট ও মিঠিপুর এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খেজুরগাছ রয়েছে। এ ছাড়া পানবাজার এলাকাতেও রয়েছে অসংখ্য খেজুরগাছ। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তৈরি করা হয় সুস্বাদু গুড় ও পাটালি। শীত এলেই রস ও গুড় উৎপাদনকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার পাশে, ফসলি জমির আইলে, বসতবাড়ির আঙিনায় ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত স্থানে খেজুরগাছ রোপণ করেছেন। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করে গাছের মালিকেরা প্রতিবছর বাড়তি আয় করেন। অনেকে গাছগুলো গাছিদের কাছে বর্গা দিয়ে মৌসুমি আয়ও করেন।
প্রতিবছর শীত মৌসুমে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় শতাধিক গাছি ও শ্রমিক পীরগঞ্জে আসেন। স্থানীয় জমির মালিকদের কাছ থেকে খেজুরগাছ বর্গা নিয়ে তাঁরা রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ করেন। ভোর থেকেই শুরু হয় তাঁদের কর্মব্যস্ততা। গাছ থেকে হাঁড়িতে জমা রস সংগ্রহের পর বড় কড়াইয়ে জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় গুড়। পরে সেই গুড় বাজারে বিক্রি করা হয়।
সরেজমিনে কথা হয় গাছি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমার বাবাও এই এলাকায় এসে খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি করতেন। তিনি এখন আর নেই। বাপ-দাদার সেই পুরোনো ব্যবসা আমরা ধরে রেখেছি। এবার প্রথমে আটজন শ্রমিক মিলে প্রায় ৪০০টি খেজুরগাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহের উপযোগী করেছি। ইতিমধ্যে ৩৫০টি গাছ প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী বুধবার থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ শুরু হবে। কয়েক দিনের মধ্যে এ এলাকায় শতাধিক শ্রমিক কাজে যোগ দেবেন।”
কাশিমপুর গ্রামের খেজুরগাছের মালিক আজিজুর রহমান বলেন, তাঁদের রোপণ করা খেজুরগাছগুলো রাজশাহীর গাছিদের কাছে বর্গা দেওয়া হয়েছে। মৌসুম শেষে তাঁরা গাছপ্রতি দুই কেজি করে গুড় পান। আর প্রতিটি গাছ থেকে পুরো মৌসুমে প্রায় ২০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। তবে রস সংগ্রহ থেকে শুরু করে গুড় তৈরি পর্যন্ত গাছিদের যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়।
এলাকাবাসী জানান, রাজশাহী থেকে আসা গাছিরা শীত মৌসুমে পীরগঞ্জে অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তাঁরা জমি ভাড়া নিয়ে খেজুরের ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করেন। ঘরের উঠানে তৈরি করা হয় গুড় জ্বাল দেওয়ার চুল্লি। সেখানেই রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরির কাজ চলে। পরে পাইকারেরা এসব গুড় কিনে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, পীরগঞ্জের তিনটি ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খেজুরগাছ রয়েছে। কৃষকেরা বসতবাড়ির আঙিনা, ফসলি জমির আইল, রাস্তার পাশ ও পরিত্যক্ত স্থানে খেজুরগাছ লাগাচ্ছেন। এসব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি শীত মৌসুমে রস ও গুড় উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।