
মহাষ্টমী উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চণ্ডীপাঠ, পূজা-অর্চনা ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন ভক্তরা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো। মহাষ্টমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার সন্ধিপূজা। পুরোহিতদের মতে, অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তিথি অনুযায়ী মহাষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার পর সন্ধিপূজা শুরু হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্ধিপূজা চলে রাত ৮টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন করছেন।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের উপকণ্ঠ বারঘরিয়ায় ২২টি মূর্তি নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাইশপুতুল দুর্গাপূজা। রাজশাহী অঞ্চলে এ পূজার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী মৃণাল কান্তি পাল জানান, আনুমানিক ১৭০৫ সাল থেকে বংশানুক্রমে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সেই হিসাবে পূজাটির ঐতিহ্য প্রায় ৩২১ বছরের।
তিনি জানান, আগে চৌডালা এলাকাকে কেন্দ্র করে এ পূজা অনুষ্ঠিত হতো। একসময় বন্যায় এলাকা প্লাবিত হলে দেবী দুর্গার কাঠামোটি ভাসতে ভাসতে বারঘরিয়া এলাকার নদীর ঘাটে এসে পৌঁছায় বলে প্রচলিত রয়েছে। পরে পূর্বপুরুষেরা স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর সেখানে পূজা শুরু করেন বলে কথিত আছে। সেই থেকে আজও এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২২টি মূর্তি নিয়ে সাজানো এ পূজা দেখতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী আসেন।