
৪৭ রান পর্যন্ত সবই ঠিকঠাক ছিল। এরপরই শুরু হলো ধস। একের পর এক উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের ২৭১ রানের লক্ষ্য থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ৯৯ রানের বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাওহীদ হৃদয়ের দলকে।
আবুধাবিতে রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার ৬.৩ ওভারে এনে দেন ৪৭ রান। কিন্তু সৌম্য ৯ রানে ফিরতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।
নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও নুরুল হাসান সোহান—কেউই প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। একটা সময় মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা নিজেদের হাতে নিতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১২৫ রানের মধ্যে হারায় ৯ উইকেট।
তানজিদ হাসান তামিমের ৪৬ রানই বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ। ২৬ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন সাইফ হাসান। শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের ২৩ রান শুধু হারের ব্যবধান কমিয়েছে। জিম্বাবুয়ের ব্রাড ইভান্স ৪৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস ত্বরান্বিত করেন।
বাংলাদেশের মতো জিম্বাবুয়ের শুরুটাও ভালো ছিল না। মাত্র ২৪ রানেই হারিয়েছিল ৩ উইকেট। কিন্তু এরপর ম্যাচের পুরো চিত্র পাল্টে দেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন।
চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন দুজন। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান করা জিম্বাবুয়ে পরের ৩০ ওভারে তোলে ১৭১ রান।
টেলরকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন সাইফ হাসান। ৩৭তম ওভারে তাঁর বলে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের হাতে ক্যাচ দেন টেলর। ১০১ বলে ১০ চারসহ ৮৪ রান করেন তিনি।
সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও পারেননি আরভিন। শরীফুল ইসলামের বলে নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচ হয়ে ফেরার আগে ১০৬ বলে ৯৩ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার।
এরপর মাধেভেরে ১৭ ও সিকান্দার রাজা ৪ রানে ফিরলেও শেষ দিকে নিউম্যান নিয়াম্বুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা যোগ করেন আরও ৩৭ রান। দুজনই ২১ রানে অপরাজিত থাকেন।
শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ নেন ৩ উইকেট, খরচ করেন ৪৪ রান।
প্রথম ম্যাচেই বড় হার বাংলাদেশের সামনে কঠিন সমীকরণ দাঁড় করিয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে ব্যাটিং ধস দেখা গেছে, সেটি দ্রুত কাটিয়ে ওঠাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।